বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:১৯ অপরাহ্ন
ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপের একটি হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে ৮৯ রানের বড় ব্যবধানে পরাজিত করেছে ভারত। এই জয়ে বিশকাপের মঞ্চে পাকিস্তানের বিপক্ষে নিজেদের শতভাগ জয় ধরে রাখলো ভারতীয় দল, যা প্রতিযোগিতার ইতিহাসে তাদের টানা সপ্তম সাফল্য। টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল পাকিস্তান, যা পরবর্তীতে তাদের জন্য বুমেরাং হয়ে দাঁড়ায়। এর ফলে শক্তিশালী ভারতের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপের বাঁচা-মরার এই লড়াইয়ে নামার আগেই বিরাট এক মানসিক চাপে ছিল পাকিস্তানি দলটি।
ম্যাচের প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং করতে নেমে শুরু থেকেই দুর্দান্ত আধিপত্য বিস্তার করে ভারতীয় ওপেনাররা। ইনজুরড শিখর ধাওয়ানের অনুপস্থিতিতে লোকেশ রাহুলকে ওপেনিংয়ে নামানো হয় এবং তিনি রোহিত শর্মার সাথে মিলে ১৩৬ রানের এক চমৎকার জুটি গড়েন। দলের রান যখন সচল, ঠিক তখনই ওয়াহাব রিয়াজের বলে ৫ রান করে আউট হন রাহুল, যার পর ক্রিজে আসেন বিশ্বক্রিকেটের অন্যতম সেরা ব্যাটার বিরাট কোহলি। অন্যদিকে, রোহিত শর্মা মাত্র ১১৩ বলে ১৪০ রানের এক চোখ জুড়ানো ইনিংস খেলে হাসান আলীর শিকারে পরিণত হন। তার এই নান্দনিক ইনিংসে ছিল ১৪টি চার ও ৩টি ছক্কার মার, যা তাকে ম্যাচসেরার পুরস্কার এনে দেয়।
ইনিংসের শেষ দিকে অধিনায়ক বিরাট কোহলি দ্রুততম ব্যাটার হিসেবে ওয়ানডে ক্রিকেটে ১১ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন এবং মাত্র ৬৫ বলে ৭৭ রান করে অপরাজিত থাকেন। পাকিস্তানের বোলারদের মধ্যে মোহাম্মদ আমির ১০ ওভারে মাত্র ৪৭ রান খরচ করে ৩টি উইকেট তুলে নিলেও ভারতের রানের চাকা পুরোপুরি থামানো যায়নি। নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে ভারতের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ৩৩৬ রান, যা বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে যেকোনো দলের জন্যই একটি পাহাড়সম লক্ষ্য।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তানের শুরুটাও মন্দ ছিল না এবং বাবর আজম ও ফখর জামান দলের ইনিংসকে বেশ ভালোভাবেই এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন। বাবর আজম ৪৮ ও ফখর জামান ৬২ রান করে আউট হওয়ার পর থেকেই মূলত ব্যাটিং ধসের মুখে পড়ে পাকিস্তানি শিবির। মাত্র ১১৭ রানে এক উইকেট হারিয়ে ভালো অবস্থানে থাকা দলটি হঠাৎ করেই ১৬৫ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে। এর পরপরই বৃষ্টি হানা দিলে ডাকওয়ার্থ ও লুইস পদ্ধতিতে পাকিস্তানের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪০ ওভারে ৩০২ রান।
বৃষ্টির পর নতুন সংশোধিত লক্ষ্য তাড়া করা পাকিস্তানের জন্য অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায় এবং তারা নির্ধারিত ৪০ ওভারে ৬ উইকেটে ২১২ রান তুলতে সক্ষম হয়। এই জয়ের ফলে চার ম্যাচে সাত পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে ভারত। অন্যদিকে, পাঁচ ম্যাচে মাত্র তিন পয়েন্ট নিয়ে নবম স্থানে অবস্থান করা পাকিস্তানের জন্য সেমিফাইনালের টিকিট পাওয়া এখন অত্যন্ত কঠিন এক সমীকরণে পরিণত হয়েছে। টুর্নামেন্টের এই পর্যায়ে এসে রোহিত শর্মার ৩১৯ রান এবং মোহাম্মদ আমিরের ১৩টি উইকেট ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের দিক থেকেও বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।