বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:০৭ পূর্বাহ্ন
দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় প্রযুক্তির ছোঁয়া লাগার সঙ্গে সঙ্গে দেশে মোবাইল ফোনের ব্যবহার ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে পাঁচ বছরের শিশু থেকে শুরু করে বয়স্ক ব্যক্তিদের হাতেও নিত্যসঙ্গী হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে মুঠোফোন। বিভিন্ন বয়সের মানুষের যোগাযোগের মাধ্যম এবং অবসাদ কাটানোর প্রধান উপায় হিসেবে মোবাইল ফোনের কদর দিন দিন বেড়েই চলেছে। ফলে সার্বিক দিক বিবেচনায় দেশে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর হার বর্তমানে প্রায় নব্বই শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাম্প্রতিক এক জরিপ প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। সংস্থার ‘আইসিটি প্রয়োগ ও ব্যবহার জরিপ ২০২৫-২৬’-এর চতুর্থ প্রান্তিকের প্রতিবেদনে দেশের ডিজিটাল খাতের এই চিত্র তুলে ধরা হয়। জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) বিভিন্ন সূচক পরিমাপের ক্ষেত্রেও এই পরিসংখ্যান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করে এই হালনাগাদ প্রতিবেদন তৈরি করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক বছরের ব্যবধানে দেশে মোবাইল ফোন ব্যবহার এবং এর ব্যক্তিগত মালিকানা উভয় সূচকই ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। আগের অর্থবছর যেখানে প্রায় ৮৮ শতাংশ মানুষ মোবাইল ব্যবহার করত, সেখানে সম্প্রতি তা বেড়ে প্রায় ৯০ শতাংশে পৌঁছেছে। তবে সবার ব্যবহারের সুযোগ থাকলেও নিজের ব্যক্তিগত মালিকানায় মোবাইল ফোন রয়েছে এমন মানুষের হার কিছুটা কম। পরিসংখ্যান বলছে, বর্তমানে প্রতি ১০০ জনের মধ্যে প্রায় ৬৬ জনের নিজস্ব মুঠোফোন রয়েছে।
মোবাইল ফোনের পাশাপাশি পরিবারভিত্তিক স্মার্টফোন ব্যবহারের প্রবণতাও বেশ লক্ষণীয়ভাবে বেড়েছে। দেশের প্রতি চারটি পরিবারের মধ্যে প্রায় তিনটিতেই এখন কোনো না কোনো সদস্যের হাতে স্মার্টফোন ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এর বিপরীতে ল্যান্ডফোনের ব্যবহার ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে। অন্যদিকে পাঁচ বছর বা তার বেশি বয়সি নাগরিকদের মধ্যে ইন্টারনেট ব্যবহারের হার উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেলেও পরিবারভিত্তিক ইন্টারনেট সংযোগের ক্ষেত্রে সামান্য পতন লক্ষ করা গেছে।