বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪৪ অপরাহ্ন

শিরোনাম
হোয়াইট হাউসে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে ট্রাম্প-শি, আলোচনায় বাণিজ্য-প্রযুক্তি-নিরাপত্তা জাতিসংঘে সাধারণ পরিষদের সভাপতির দপ্তরে ‘লিগ্যাল অফিসার’হলেন জাইমা হোয়াইট হাউসে সি—ট্রাম্প বললেন, মার্কিন-চীন সম্পর্ক নিয়ে আমি গর্বিত জুডিশিয়াল সার্ভিসে সুপারিশ পেলেন তুরি জনগোষ্ঠীর কাজল পাঁড়ে স্কুল থেকে ফিরেই গোয়ালঘরে, গরুর গুঁতায় শিক্ষিকার মৃত্যু জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বাংলাদেশ সময় রাত ৩টা জাতিসংঘে খলিলুরের কার্যালয়ে লিগ্যাল অফিসার হলেন জাইমা রহমান মেয়েকে ছোবল, জ্যান্ত সাপসহ হাসপাতালে ছুটলেন বাবা হান্নান মাসউদের বক্তব্য নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডা, হাতাহাতিতে জড়াল এনসিপি ও ছাত্রদল বাল্যবিবাহ ঠেকাতে ইউএনওর দ্বারস্থ ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী, পুলিশ হওয়ার স্বপ্ন

জুডিশিয়াল সার্ভিসে সুপারিশ পেলেন তুরি জনগোষ্ঠীর কাজল পাঁড়ে

বাংলাদেশের বিচার বিভাগে এক নতুন ইতিহাসের জন্ম দিয়েছেন তুরি জনগোষ্ঠীর কৃতি সন্তান কাজল পাঁড়ে। সম্প্রতি প্রকাশিত বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের সুপারিশমালায় সহকারী জজ বা সিভিল জজ হিসেবে চূড়ান্তভাবে মনোনীত হয়েছেন তিনি। প্রান্তিক ও অবহেলিত একটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী থেকে প্রথম বারের মতো কেউ এই উচ্চ পদে জায়গা করে নেওয়ায় চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে আনন্দের বার্তা। তার এই অভাবনীয় অর্জনে কেবল তার পরিবার নয়, পুরো এলাকার মানুষই এখন গর্বিত ও উদ্বেলিত।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর ইউনিয়নের মাধাই গ্রামের একটি অতি সাধারণ পরিবারে কাজলের জন্ম। তার বাবা একজন ভূমিহীন কৃষক, যিনি দিনমজুরের কাজ করে অত্যন্ত কষ্টে সংসার চালাতেন এবং সন্তানদের পড়াশোনা করানোর চেষ্টা করেছেন। চরম অর্থনৈতিক সংকট আর অনটনের মাঝেও কাজল নিজের পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে। অভাবের তাড়নায় পরিবারকে লড়তে হলেও কাজল তার লক্ষ্য থেকে কখনো পিছপা হননি, বরং পড়াশোনাকেই জীবনের পরিবর্তনের একমাত্র হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন।

স্থানীয়রা জানান, ছোটবেলা থেকেই অত্যন্ত মেধাবী ও পরিশ্রমী ছিলে কাজল পাঁড়ে। বিভিন্ন প্রতিকূলতা পেরিয়ে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়ে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষার মতো অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক ও কঠিন ধাপে সফল হওয়া তার দীর্ঘ সংগ্রাম ও ত্যাগেরই ফল। তার এই সাফল্য প্রমাণ করে যে মেধা ও কঠোর অধ্যবসায় থাকলে কোনো সামাজিক বা অর্থনৈতিক বাধাই সফলতার পথে অন্তরায় হতে পারে না।

কাজল পাঁড়ের এই সাফল্যে কেবল তার পরিবার বা গ্রামবাসীই নয়, বরং পুরো তুরি জনগোষ্ঠী এক নতুন স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে। তার এই অর্জন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের তরুণদের জন্য অনেক বড় একটি অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন স্থানীয় সুধীজন। এমন একটি প্রান্তিক জনপদ থেকে উঠে এসে বিচারকের আসনে বসার এই গল্প আগামী দিনে দেশের অন্য তরুণদেরও বড় স্বপ্ন দেখতে এবং সেই অনুযায়ী কঠোর পরিশ্রম করতে উদ্বুদ্ধ করবে।


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: