শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৫ পূর্বাহ্ন
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের আমন্ত্রণে হোয়াইট হাউসে পৌঁছান চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং ও তাঁর স্ত্রী পেং লিয়ুয়ান। সেখানে বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী এই দুই নেতাকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট দম্পতি। দুই দেশের শীর্ষ এই বৈঠকের মাধ্যমে বিশ্ব রাজনীতি ও কূটনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। দীর্ঘদিন ধরে চলা নানা মতপার্থক্য সত্ত্বেও বিশ্বমঞ্চে এই সাক্ষাতের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে।
হোয়াইট হাউসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে গভীর সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানান, বিভিন্ন জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ইস্যুতে ওয়াশিংটন এবং বেইজিং অত্যন্ত সফলভাবে একসঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীন যৌথভাবে একটি ভারসাম্যপূর্ণ বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তোলার লক্ষ্যে আন্তরিকভাবে কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এর মাধ্যমে মার্কিন কৃষক ও খামারিদের জন্য বিশাল চীনা বাজারে প্রবেশাধিকার এবং নতুন বাণিজ্যিক সুযোগ সৃষ্টির বিষয়টি নিশ্চিত করা হচ্ছে।
বাণিজ্যিক প্রসারের পাশাপাশি দুই দেশের এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বৈশ্বিক নিরাপত্তা, আধুনিক প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলোও গুরুত্ব পেয়েছে। ট্রাম্প মন্তব্য করেন যে, বর্তমান সময়ে প্রযুক্তি ও নিরাপত্তার মতো ক্ষেত্রগুলোতে যে দূরদর্শী সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হচ্ছে, তা আগামী কয়েক দশক ধরে বিশ্বজুড়ে শান্তি ও সমৃদ্ধি বজায় রাখতে সহায়তা করবে। দ্বিপক্ষীয় এই সহযোগিতার ধারা অব্যাহত থাকলে তা দুই দেশের জন্যই সুফল বয়ে আনবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
চীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য, প্রযুক্তিগত আধিপত্য ও বৈশ্বিক অর্থনীতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের মতপার্থক্য ও ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা চলে আসছে। এমন একটি সংবেদনশীল সময়ে চীনা রাষ্ট্রপতির এই যুক্তরাষ্ট্র সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হচ্ছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন অনেক ক্ষেত্রেই অভিন্ন লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলেছে এবং দুই দেশের এই অংশীদারিত্ব নিয়ে তিনি অত্যন্ত গর্বিত। ভবিষ্যতে পারস্পরিক সহযোগিতার এই ধারা বজায় রেখে তারা একসঙ্গে বিশ্ববাসীর কল্যাণে কাজ করে যাবেন।