শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৫৭ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
সৌদির ইয়ানবু বন্দর রক্ষায় সেনা ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠানোর ঘোষণা ম্যাক্রোঁর জাপানে আশ্রয় চাইলেন উত্তর কোরিয়ার প্রতিনিধিদলের দুই সদস্য বিশ্বের বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্যচুক্তিতে যুক্ত হওয়ার পথে বাংলাদেশ জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর ভাষণ শুরু হতেই বেরিয়ে গেলেন বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থাকে নিশ্চিহ্ন করতে ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ চলছে: জর্ডান এশিয়ান গেমসের জন্য দেশ ছাড়লেন লিটনরা নিষেধাজ্ঞার পর হোয়াইট হাউসে ফিরলেন এমএস নাও, সিএনএন ও পলিটিকোর সাংবাদিকরা ৩৪ বছর পর এই প্রথম কোনো শিশু জন্মাল প্রত্যন্ত এক স্কটিশ দ্বীপে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ে নিয়োগ পেলেন জাইমা রহমান নাৎসি বন্দিশিবিরে অপরাধের অভিযোগে তদন্তের মুখে ১০৫ বছর বয়সী ব্যক্তি

ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থাকে নিশ্চিহ্ন করতে ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ চলছে: জর্ডান

জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী বিষয়ক ত্রাণ ও কর্মসংস্থান সংস্থাকে রাজনৈতিকভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়ার জন্য একটি সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র চলছে বলে মন্তব্য করেছেন জর্ডানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আয়মান সাফাদি। সম্প্রতি নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের একটি মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে তিনি এই আশঙ্কার কথা জানান। তার মতে, পরিকল্পিতভাবে এই আন্তর্জাতিক সংস্থাটিকে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান মানবিক সংকটকে আরও বেশি ঘনীভূত করতে পারে।

জর্ডানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, ইউএনআরডব্লিউএর কার্যক্রম যদি অন্য কোনো পক্ষের কাছে হস্তান্তরের চেষ্টা করা হয়, তবে সেটি এই সংস্থাকে চিরতরে বিলুপ্ত করার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে গণ্য হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে গাজার প্রায় ২০ লাখ মানুষ চরম খাদ্যসংকট, তীব্র শীতের প্রকোপ এবং শিক্ষাবঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এই অবস্থায় সংস্থাটিকে ভেঙে ফেলার সুযোগ দেওয়া হলে তা ওই অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষের জীবনে এক অপূরণীয় বিপর্যয় ডেকে আনবে।

সম্মেলনে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস জানিয়েছেন যে, বর্তমান সময়ে গাজায় কর্মরত এই সংস্থার কর্মীরা নজিরবিহীন মানবিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছেন। সেখানে সংঘাত শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত সংস্থাটির প্রায় চারশ কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন, যা বিশ্ব সম্প্রদায়ের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। পাশাপাশি, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি জোর দিয়ে বলেছেন যে, সাধারণ মানুষকে মানবিক সেবা দেওয়ার কারণে কোনো ত্রাণকর্মীকে যেন এভাবে জীবন দিয়ে মূল্য দিতে না হয়।

বর্তমানে এই সংস্থাটি প্রায় ১০ কোটি ডলারের তীব্র তহবিল ঘাটতির পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের প্রশাসনিক জটিলতার মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। ইসরায়েলের পক্ষ থেকে ভিসা প্রদানে অনীহা এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক সমন্বয় সভা থেকে এই সংস্থাকে দূরে রাখার মতো ঘটনা ঘটছে। এসব আর্থিক ও প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতার কারণে ইতোমধ্যে সেবা কার্যক্রম ২০ শতাংশ কমিয়ে আনতে বাধ্য হয়েছে সংস্থাটি, যার ফলে শিক্ষা ও মাঠপর্যায়ের কর্মীদের বেতনও আনুপাতিক হারে হ্রাস পেয়েছে।

এদিকে ইউএনআরডব্লিউএর ভারপ্রাপ্ত কমিশনার-জেনারেল ক্রিশ্চিয়ান সন্ডার্স জানিয়েছেন, গাজার জনসংখ্যার প্রায় ৯৪ শতাংশের কাছে কোনো সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রের সুব্যবস্থা নেই। অবর্ণনীয় এই পরিস্থিতির মধ্যে প্রায় ৯৮ শতাংশ মানুষ ধ্বংসস্তূপ এবং খোলা নর্দমার বর্জ্যের মধ্যেই মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন। তিনি আরও জানান যে, সংস্থার নিরপেক্ষতা বজায় রাখার বিষয়ে স্বাধীন কোলোনা রিপোর্টের সুপারিশগুলোর আশির শতাংশেরও বেশি ইতোমধ্যে সফলভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে।


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: