শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২৩ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
পত্রিকা: ‘ডিএমপির অপরাধী চক্রের তালিকায় প্রতি ছয়জনে একজন ১৮ বছরের কম বয়সী’ ইউটিউব দেখে ‘সূর্যডিম’ তরমুজ চাষ, তিন লাখ টাকা বিক্রির আশা জব্বারের বিদেশে পড়াশোনা শেষে চাকরি: ভুয়া নিয়োগ ও ভিসা স্পনসরশিপের ফাঁদ চিনবেন যেভাবে ২০২৮ সালের মধ্যে সব ক্ষেত্রে এআই মানুষকে ছাড়িয়ে যাবে: ইলন মাস্ক সাড়ে তিনশো বছরেও লালবাগ কেল্লার নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ার পেছনে আছে যে গল্প মদিনার প্রান্তরে ঐতিহাসিক পাঁচ মসজিদ খাওয়ার পর চা: এই অভ্যাস কতটা স্বাস্থ্যসম্মত ফেলিক্সের গোলে পর্তুগালের জয়, নরওয়ের জয়ে হলান্ডের জোড়া গোল ভারতে মুসলিম কর্মকর্তাদের বাদ দেওয়ার খবর প্রকাশ, সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে মামলা তারেক রহমানের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

সাড়ে তিনশো বছরেও লালবাগ কেল্লার নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ার পেছনে আছে যে গল্প

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার অন্যতম প্রধান ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হলো লালবাগ কেল্লা। বুড়িগঙ্গার তীরে অবস্থিত এই প্রাচীন দুর্গটি দেখতে প্রতিদিন বহু দর্শনার্থী ভিড় করেন। ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটির আদি নাম ছিল ফোর্ট আওরঙ্গবাদ, যা মোঘল আমলের স্থাপত্যকলার এক অনন্য সাক্ষী হিসেবে দাঁড়িয়ে রয়েছে। প্রায় সাড়ে তিনশ বছর আগে এই দুর্গটির নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল, যা মোঘল সাম্রাজ্যের গৌরবময় ইতিহাসের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

১৬৭৮ সালে মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের তৃতীয় পুত্র যুবরাজ মোহাম্মদ আজম শাহ বাংলায় সুবাদার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে এই কেল্লার নির্মাণকাজ শুরু করেন। সে সময় নিজের বাসভবন এবং মোঘল সেনাবাহিনীর সদর দফতর হিসেবে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে এই দুর্গটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে যুবরাজ আজম শাহ তার মেয়াদের মাত্র ১৫ মাস ঢাকায় অবস্থান করতে পেরেছিলেন এবং সম্রাট আওরঙ্গজেবের জরুরি তলবে তাকে দ্রুত দিল্লি ফিরে যেতে হয়েছিল। এর ফলে কেল্লার নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই স্থবির হয়ে পড়ে।

যুবরাজ ঢাকা ত্যাগ করার পর বাংলার নতুন সুবাদার হিসেবে দায়িত্ব নেন শায়েস্তা খান। তিনি কেল্লার নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু করেন এবং এর নকশায় কিছু পরিবর্তন আনেন। তবে ১৬৮৪ সালে শায়েস্তা খানের অতি প্রিয় কন্যা পরী বিবি হঠাৎ মারা যাওয়ার পর এই ঐতিহাসিক স্থাপনার ভাগ্য সম্পূর্ণ বদলে যায়। সে যুগে প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, পরী বিবির আকস্মিক মৃত্যুকে অশুভ লক্ষণ হিসেবে দেখা হয়েছিল এবং এই ধারণার বশবর্তী হয়ে শায়েস্তা খান লালবাগ কেল্লার নির্মাণকাজ চিরতরে বন্ধ করে দেন।

পরবর্তীতে মোঘল সাম্রাজ্যের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে এই দুর্গের নির্মাণকাজ আর কখনো চালু করা হয়নি। কালের পরিক্রমায় অসমাপ্ত অবস্থাতেই এটি ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয় এবং আজও তা অসম্পূর্ণ কেল্লা হিসেবেই পরিচিত। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সংরক্ষণে থাকা এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি বর্তমানে ঢাকার অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র এবং মোঘল আমলের স্মৃতির বাহক হিসেবে টিকে রয়েছে।


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: