সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:২০ পূর্বাহ্ন
সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে বয়সসীমা বাড়িয়ে ন্যূনতম চল্লিশ বছর করার সুনির্দিষ্ট দাবিতে রাজধানীতে একটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্প্রতি আয়োজিত এই কর্মসূচিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে চাকরিপ্রত্যাশী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা অংশ নেন এবং তাদের দীর্ঘদিনের দাবি তুলে ধরেন। আন্দোলনকারীদের মতে, বর্তমান প্রতিযোগিতাপূর্ণ বাজারে বয়সসীমা কম থাকায় লাখ লাখ তরুণ কর্মসংস্থানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং বেকারত্বের অভিশাপ নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সমন্বিত বয়স বৃদ্ধি আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক রোমান কবির সরকারের পূর্বের প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার আগে তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে বা বিভিন্ন সময়ে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা সম্পূর্ণ তুলে দেওয়ার কথা বলেছিল। অথচ দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি, যা চাকরিপ্রত্যাশী তরুণ সমাজের মাঝে তীব্র হতাশার সৃষ্টি করেছে।
বক্তারা আরও জানান, করোনা মহামারী এবং নানা সামাজিক সংকটের কারণে বিগত বছরগুলোতে শিক্ষা ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যে দীর্ঘসূত্রিতা তৈরি হয়েছে, তার ফলে অনেকেই নির্ধারিত বয়সের মধ্যে চাকরির আবেদন করার সুযোগ হারিয়েছেন। তাই সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সাথে সংগতি রেখে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা অবিলম্বে উন্নীত করা উচিত। অন্যথায় দেশের শিক্ষিত যুবসমাজকে বাঁচাতে আরও কঠোর ও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে তারা হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
এদিকে আন্দোলনকারীদের এই দাবির পক্ষে বিভিন্ন সচেতন মহল থেকেও সমর্থন জানানো হচ্ছে। তাদের যুক্তি হলো, উন্নত বিশ্বের অনেক দেশেই চাকরিতে প্রবেশের কোনো কঠোর বয়সসীমা থাকে না, বরং যোগ্যতাই সেখানে মূল মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই সরকারের নীতিনির্ধারক মহল বিষয়টি নিয়ে ইতিবাচক পুনর্বিবেচনা করবে এবং দ্রুত একটি যৌক্তিক সমাধান বের করবে এমনটাই প্রত্যাশা করছেন ভুক্তভোগী তরুণেরা।