সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫৬ পূর্বাহ্ন
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদের সঙ্গে এক গোপন বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম এন১২-এর মাধ্যমে এই বৈঠকের খবর প্রথম প্রকাশ পায় এবং পরবর্তীতে একটি কূটনৈতিক সূত্রও বিষয়টি নিশ্চিত করে। ব্যক্তিগত একটি উড়োজাহাজে চড়ে আবুধাবিতে পৌঁছান ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী এবং সেখানে উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকটি সম্পন্ন করেন। তবে দুই নেতার মধ্যে ঠিক কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে নেতানিয়াহুর কার্যালয় কিংবা আমিরাত সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং এবং সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেল আবিবের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে নেতানিয়াহুকে বহনকারী বিমানটি স্থানীয় সময় বিকেলে আবুধাবিতে অবতরণ করে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে মাত্র কয়েক ঘণ্টা অবস্থান শেষেই তিনি পুনরায় ইসরাইলের উদ্দেশে রওনা দেন। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের এই গোপন সফর আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বেশ কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই ধরনের আকস্মিক ও গোপন বৈঠক নানা জল্পনা-কল্পনার সৃষ্টি করেছে।
এর আগে গণমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে, ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের বড় ধরনের অভিযান সম্পর্কে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীকে আগেই সতর্ক করেছিলেন আমিরাতের প্রেসিডেন্ট। যদিও সেই সতর্কবার্তার কার্যকারিতা নিয়ে নানা বিতর্ক রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো বিষয়টি নিয়ে এড়িয়ে গেছে। তবে ২০২০ সালে আব্রাহাম অ্যাকর্ডস স্বাক্ষরের পর থেকেই তেল আবিব ও আবুধাবির মধ্যে কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। এর আগেও নেতানিয়াহুর গোপন আমিরাত সফর নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল, যা দুই দেশের মধ্যকার নিবিড় যোগাযোগের ইঙ্গিত দেয়।
ইরানের সঙ্গে চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইসরাইল তাদের কৌশলগত সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার চেষ্টা করছে। ২০২০ সালে সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার পর থেকে আবুধাবি এই বন্ধুত্বের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারে সচেষ্ট রয়েছে। নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক নানা ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করা হয়। সর্বশেষ এই গোপন বৈঠকটিও মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তিত নিরাপত্তা সমীকরণের অংশ বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।