বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১৩ অপরাহ্ন
মাগুরা জেলার একটি আবাসিক বিদ্যুতের গ্রাহকের হাতে প্রায় পনরোশ কোটি টাকার ভুতুড়ে ও অবাস্তব বিল ধরিয়ে দেওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের চার কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সাধারণ গ্রাহকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও আলোচনার সৃষ্টি করা এই ঘটনাটি জানার পর বিদ্যুৎ বিভাগ দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এই অনিয়ম ও চরম দায়িত্বহীনতার কারণে বিভাগীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
অস্বাভাবিক এই বিলের কারণে হতবাক হওয়া ওই গ্রাহকের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি ভুক্তভোগী গ্রাহককে ফোন করে পুরো ঘটনার জন্য আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেন এবং তাকে আশ্বস্ত করেন যে এই ধরনের হয়রানির পুনরাবৃত্তি রোধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। মন্ত্রীর এমন সহানুভূতিশীল পদক্ষেপে ভুক্তভোগী গ্রাহক ও স্থানীয় সাধারণ মানুষ কিছুটা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, দায়িত্ব পালনে অবহেলা এবং মিটারের তথ্য সঠিকভাবে যাচাই না করেই মনগড়া বিল তৈরি করার পেছনে এই অভিযুক্ত কর্মচারীদের সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল। বিদ্যুৎ খাতে এ ধরনের অসঙ্গতি ও ডিজিটাল কারিগরি ত্রুটির আড়ালে গ্রাহক হয়রানি কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে স্থায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
সার্বিক এই ঘটনার পর দেশজুড়ে বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোর গ্রাহকসেবা ও বিলিং পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে এবং সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। গ্রাহকদের ভোগান্তি কমাতে এবং স্বচ্ছতা ফেরাতে মাঠপর্যায়ের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আরও বেশি সতর্ক ও দায়িত্বশীল হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রণালয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের গুরুতর ভুল এড়াতে পুরো বিলিং প্রক্রিয়াটি আরও নিবিড়ভাবে তদারকি করার জন্য সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।