বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৩৪ অপরাহ্ন

শিরোনাম
৩৪০০০ ফুট উঁচুতে এক পাইলট ছুরিকাঘাত করেন আরেক জনকে, বিমান ক্র্যাশ করার চেষ্টা হামের উপসর্গে আরও ৪ মৃত্যু, আক্রান্ত ১৩৪৯ মেসিহীন আর্জেন্টিনার আক্রমণে নতুন চমক ঝড়-বৃষ্টি ছাড়াই ঘরের ওপর ভেঙে পড়ল গাছ, মায়ের প্রাণ গেলেও অক্ষত ৮ মাসের শিশু ৫০৬ কোটির ভুতুড়ে বিলের ঘটনায় জিএমসহ চারজন বরখাস্ত, মন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ বিতর্কের মুখে ঈশ্বরদীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সব কমিটি বিলুপ্ত আইফেল টাওয়ারের প্রধান পদত্যাগ করছেন, কারণ কী নেছারাবাদে স্কুল ফিডিংয়ের ৩০ প্যাকেট দুধ চুরির পর ২৭ প্যাকেট ফেরত স্ত্রীর মৃত্যুর দুই দিন পর হাসপাতালে মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ মিরপুরে ডিএনসিসির গাড়িতে হামলা-অগ্নিসংযোগ: প্রশাসক বললেন—উচ্ছেদ চলবে

ঝড়-বৃষ্টি ছাড়াই ঘরের ওপর ভেঙে পড়ল গাছ, মায়ের প্রাণ গেলেও অক্ষত ৮ মাসের শিশু

রংপুর সদর উপজেলার মমিনপুর ইউনিয়নের হাজরাহাটি ভরকুল এলাকায় এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ঘুমন্ত অবস্থায় দীপা রানী নামের এক চব্বিশ বছর বয়সী গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। গভীর রাতে হঠাৎ কোনো ধরনের ঝড়-বৃষ্টি ছাড়াই একটি বিশাল জোড়পাকড় গাছ উপড়ে একটি টিনের ঘরের ওপর আছড়ে পড়ে। বিকট শব্দে ঘুম ভেঙে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং দেখেন যে গাছটির নিচে একটি পুরো পরিবার চাপা পড়ে গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় ওই ঘরের ভেতরে দীপা রানী, তাঁর স্বামী সজীব এবং তাঁদের আট মাসের কোলের শিশুসন্তান ঘুমাচ্ছিলেন। হঠাৎ গাছ ভেঙে পড়ার কারণে ঘরটি সম্পূর্ণ দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে সবাই আটকা পড়েন। পরবর্তীতে এলাকাবাসী ও ফায়ার সার্ভিসের যৌথ প্রচেষ্টায় উদ্ধারকাজ শুরু হলে দীপা রানীর মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং তাঁর স্বামীকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে পাঠানো হয়।

সবচেয়ে বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে ওই আট মাসের শিশুটিকে সম্পূর্ণ অক্ষত ও জীবত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়। শিশুটির শরীরে কোনো আঘাতের দৃশ্যমান চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা ও স্বজনেরা। গুরুতর আহত সজীবকে দ্রুত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং তাঁর মাথায় বেশ কয়েকটি সেলাই দিতে হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঘটনার সময় আবহাওয়া সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ছিল এবং কোনো ঝড় বা বাতাস বইছিল না, যা এই দুর্ঘটনাকে আরও রহস্যজনক করে তুলেছে। ধারণা করা হয় প্রায় আড়াইশ থেকে তিনশ বছরের পুরনো ওই গাছটির নিচে একটি কালীমন্দিরও ছিল। এই আকস্মিক দুর্ঘটনায় দুটি টিনের ঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হওয়ার পাশাপাশি ঘরের আসবাবপত্র এবং একটি মোটরসাইকেলও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মমিনপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মো. ফরহাদ হোসেন এই মর্মান্তিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান যে বিষয়টি ইতোমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর জন্য সরকারের দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে সহায়তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আকস্মিকভাবে পুত্রবধূকে হারিয়ে এবং ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় অসহায় পরিবারটির ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে।


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: