মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৪৩ অপরাহ্ন
লাইফস্টাইল ডেস্ক: ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে আমাদের পোশাক-আশাক ও জীবনযাত্রায় যেমন ভিন্নতা আসে, তেমনি ত্বকের যত্নের রুটিনেও প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা জরুরি। প্রকৃতিতে গরম ও আর্দ্র ভাব কমে যখন ঠান্ডা ও শুষ্ক হাওয়া বইতে শুরু করে, তখন তার সরাসরি প্রভাব পড়ে আমাদের ত্বকের ওপর। ঘরের ভেতরের শুষ্ক পরিবেশ এবং বাইরের ঠান্ডা বাতাসের মিশ্রণে ত্বক ধীরে ধীরে তার স্বাভাবিক আর্দ্রতা হারাতে থাকে। এই সময় ত্বক অতিরিক্ত সংবেদনশীল হয়ে ওঠার পাশাপাশি শুষ্ক ও টানটান ভাব দেখা দিতে পারে, যা আবহাওয়া বদলের স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।
মুখ ধোয়ার পরপরই যদি ত্বক টানটান অনুভূত হয় কিংবা প্রতিদিনের ময়েশ্চারাইজার আগের মতো কাজ না করে, তবে বুঝতে হবে ত্বকের যত্নে নতুন কিছু যোগ করা প্রয়োজন। মেকআপ করার সময় যদি ফাউন্ডেশন ত্বকের খসখসে অংশে আটকে যায় বা মুখে মৃদু জ্বালাপোড়া অনুভূত হয়, তবে তা শুষ্কতার বড় লক্ষণ। মূলত আবহাওয়ার আর্দ্রতা কমে যাওয়ার কারণে ত্বক তার ভেতরের পানি ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়। এর পাশাপাশি দীর্ঘ সময় ধরে অতিরিক্ত গরম পানিতে গোসল করা কিংবা খুব বেশি ফেনা তৈরি করে এমন ক্লিনজার ব্যবহার করার ফলে ত্বকের প্রাকৃতিক তেল নষ্ট হয়ে যায়।
এই শুষ্ক আবহাওয়া থেকে ত্বককে রক্ষা করতে হলে আর্দ্রতা বজায় রাখার বিকল্প নেই। ত্বক পরিষ্কার করার জন্য মৃদু ক্লিনজার ব্যবহারের পাশাপাশি হায়ালুরনিক অ্যাসিড বা গ্লিসারিনযুক্ত সেরাম ব্যবহার করা যেতে পারে। মুখ কিছুটা ভেজা থাকা অবস্থায় এই উপাদানগুলো ব্যবহার করলে ত্বকে দীর্ঘসময় আর্দ্রতা বজায় থাকে। এরপর একটি ভালো মানের ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে ত্বকে সুরক্ষার একটি স্তর তৈরি করা অত্যন্ত কার্যকরী। বিশেষ করে সেরামাইডযুক্ত ময়েশ্চারাইজার ত্বকের প্রাকৃতিক প্রতিরোধী স্তরকে সুস্থ রাখতে দারুণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
মুখের পাশাপাশি চোখের চারপাশের সংবেদনশীল ত্বক এবং ঠোঁটের প্রতিও এই সময়ে বিশেষ যত্নশীল হওয়া প্রয়োজন। অনেকেই মনে করেন মেঘলা দিনে বা শীতের সময়ে সানস্ক্রিনের কোনো প্রয়োজন নেই, যা একটি ভুল ধারণা। সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি সারা বছরই সক্রিয় থাকে, তাই শীতের রোদেও বাইরে যাওয়ার আগে সানস্ক্রিন ব্যবহার করা আবশ্যক। স্কিন কেয়ার পণ্য কেনার সময় লেবেলে স্কুয়ালেন, নিয়াসিনামাইড, প্যানথেনল কিংবা গ্লিসারিনের মতো উপকারী উপাদানগুলো আছে কি না, তা দেখে নেওয়া উচিত।