বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১৮ পূর্বাহ্ন
আধুনিক কর্মব্যস্ত জীবনে কাজের চাপ ও মানসিক ক্লান্তির হাত থেকে মুক্তি পেতে নতুন এক পথ বেছে নিচ্ছেন তরুণ প্রজন্ম। বিশেষ করে উন্নত দেশগুলোর জেন জি এবং মিলেনিয়াল প্রজন্মের মাঝে স্লো লিভিং বা ধীর জীবনযাপনের ধারণাটি দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। তাদের কাছে ক্যারিয়ার বা অর্থ উপার্জনের চেয়ে ব্যক্তিগত আবেগ, শখ এবং সম্পর্ক অনেক বেশি মূল্যবান হয়ে উঠেছে। যার ফলে একটানা কাজ করার ইঁদুর দৌড় থেকে বেরিয়ে এসে অনেকেই জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সময়গুলো নিজের মতো করে কাটাতে চাচ্ছেন।
টানা কাজ করতে করতে মানসিক অবসাদ বা বার্নআউটের শিকার হয়ে এক বছর লম্বা ছুটি কাটানোর মতো ঘটনাও এখন সামনে আসছে। কিছুদিন আগে এমা গ্যানন নামের এক ইংরেজ লেখক ও উদ্যোক্তা তাঁর জীবনের দীর্ঘ ছুটির অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি বই প্রকাশ করেছেন। যেখানে তিনি অতিরিক্ত কাজের চাপে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর টানা বারো মাস সব ধরনের পেশাগত কার্যক্রম থেকে দূরে থাকার গল্প তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, মানব শরীর ও মন সর্বদা কঠোর পরিশ্রমের জন্য তৈরি নয়, বরং একটু জিরিয়ে নেওয়া কিংবা প্রকৃতির মাঝে সময় কাটানো সুস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
বর্তমান যুগে এই ধরনের মানসিক ক্লান্তির প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে হাতের কাছে থাকা আধুনিক প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতি ব্যবহার। স্মার্টফোনের কল্যাণে কর্মক্ষেত্রের যোগাযোগ সারাক্ষণ বজায় থাকায় ব্যক্তিগত জীবনের সীমানা প্রায় মুছে গেছে এবং ছুটির দিনেও কাজের চাপ পিছু ছাড়ছে না। মহামারী পরবর্তী সময়ে মানুষের জীবনদর্শন কিছুটা বদলালেও দৈনন্দিন জীবনের নানা ব্যস্ততা এবং ঘরের কাজের চাপে পূর্ণাঙ্গ বিশ্রাম পাওয়া অনেক সময় কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। এর ফলে কর্মজীবীরা প্রায়শই তীব্র অবসাদ বা বার্নআউটের মুখোমুখি হন, যা তাদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
সবার পক্ষে হুট করে দীর্ঘ এক বছরের ছুটি নেওয়া বাস্তবসম্মত না হলেও মানসিক অবসাদ দূর করার কার্যকর উপায় খুঁজে বের করা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষজ্ঞরা কর্মক্ষেত্রের একঘেয়েমি কাটাতে এবং বার্নআউট রুখতে ছুদিনগুলোকে যথাযথভাবে কাজে লাগানোর পরামর্শ দিচ্ছেন। অফিসের কাজের বাইরে নিজের জন্য আলাদা সময় বের করা, শখের পেছনে কিছুটা সময় ব্যয় করা কিংবা সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় থেকে বিশ্রাম নেওয়া মানসিক শক্তি পুনরুদ্ধার করতে সাহায্য করে। তাই ক্যারিয়ারের পাশাপাশি নিজের শরীর ও মনের যত্ন নেওয়াটাকেই এখন সর্বাগ্রে প্রাধান্য দেওয়া উচিত বলে মনে করছেন সচেতন মানুষেরা।