বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৬ অপরাহ্ন
মো. আবদুল আজিজ, স্টাফ রিপোর্টার : নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় ইটভাটা কালো ধোয়া, সড়ক দাপড়িয়ে অবৈধ ইটভাটার মাটি সংগ্রহ জনদুর্ভোগে জনজীবন অতিষ্ট হয়ে উঠেছে।
চরজব্বর ইউনিয়নের চর পানাউল্লাহ এলাকায় কৃষিজমি থেকে মাটি কেটে ইটের কাঁচামাল প্রস্তুত এবং কৃষিজমি এলাকায় ইটভাটা স্থাপনের অভিযোগে ‘একে বি ব্রিকস ফিল্ড’-একটি ইটভাটায় অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
অভিযানে ভাটার মালিক মো. আকবর হোসেনকে ২ লাখ টাকা জরিমানাও আদায় করেন প্রশাসন। একই সঙ্গে অবৈধভাবে স্থাপিত ইটভাটাটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
আজ বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে এ অভিযানটি পরিচালনা করেছেন, সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আকিব ওসমান এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) ছেনমং রাখাইনের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতের টিম।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, চর পানাউল্লাহ এলাকায় কৃষিজমি থেকে মাটি কেটে ইটের কাঁচামাল প্রস্তুত করা এবং কৃষিজমি এলাকায় ইটভাটা স্থাপনের অভিযোগে একে বি ব্রিকস ফিল্ডে অভিযান চালানো হয়। এ সময় অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ইটভাটার মালিক মো. আকবর হোসেনকে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (সংশোধিত ২০১৯)-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। পরে জরিমানার অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়।
অভিযানের সময় এক্সকাভেটর ব্যবহার করে ইটভাটার স্থাপনা ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে অভিযানে টিম দেখেন, ভাটার আশপাশে বিপুল পরিমাণ কাঁচা ইট, মাটির স্তূপ এবং ইট তৈরির বিভিন্ন অবকাঠামো ছিল।
কৃষিজমির মাটি দিয়ে ইটের কাঁচামাল
অভিযানের মূল অভিযোগের একটি ছিল কৃষিজমি থেকে মাটি কেটে ইটের কাঁচামাল প্রস্তুত করা। ফলে স্থানীয়ভাবে প্রশ্ন উঠেছে—কোন জমি থেকে মাটি কাটা হয়েছে, জমির শ্রেণি কী ছিল এবং কত পরিমাণ মাটি উত্তোলন করা হয়েছে?
এ ছাড়া কৃষিজমিতে ইটভাটা স্থাপনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও পরিবেশগত ছাড়পত্র ছিল কি না নিশ্চিত করে প্রশাসন।
মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকালে পরিবেশ অধিদপ্তর, নোয়াখালী জেলা কার্যালয়, চরজব্বর থানা এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, সুবর্ণচর, নোয়াখালী-এর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন থেকে সার্বিকভাবে সহায়তা করেন। জনস্বার্থে এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে নিশ্চিত করেন গণমাধ্যমকে প্রশাসন।