বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২২ পূর্বাহ্ন
রাজনীতি ডেস্ক: রংপুরের পীরগাছায় সার ডিলার নিয়োগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতির একটি গোপন তালিকা প্রকাশ্যে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে যে, ডিলার নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত করা এই দলীয় প্যাডের তালিকায় সাধারণ যোগ্য ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের আত্মীয়স্বজন এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলের লোকজনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, পীরগাছা উপজেলা বিএনপির প্যাডে সভাপতি আমিনুল ইসলাম রাঙ্গার স্বাক্ষর ও সিলমোহরযুক্ত ‘ডিলার নিয়োগ-২০২৬’ শীর্ষক ওই তালিকায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের জন্য মোট ১৯ জনের নাম সুপারিশ করা হয়েছে। এই তালিকায় উপজেলা বিএনপির সভাপতির নিজের স্ত্রী সুলতানা ফেরদৌসি ছাড়াও সাধারণ সম্পাদকের স্ত্রী সুইটি বেগমের নাম রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিএনপি নেতাদের সন্তান, শ্বশুর এবং ফুপাতো ভাইয়েরাও এই বিতর্কিত তালিকায় স্থান পেয়েছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
স্বজনপ্রীতির পাশাপাশি এই তালিকায় বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের নাম থাকার বিষয়টি নিয়েও তুমুল আলোচনা চলছে। পীরগাছা সদর ইউনিয়নের তালিকায় জাতীয় পার্টির এক নেতার ঘনিষ্ঠ কর্মীর নাম পাওয়া গেছে। এমনকি তাম্বুলপুর ও কান্দি ইউনিয়নের তালিকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধআওয়ামী লীগ এবং জামায়াতের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। স্থানীয় বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের প্রভাবশালী নেতাদের অনেকেই এই প্রক্রিয়ায় নিজের পরিবারের সদস্যদের নাম অন্তর্ভুক্ত করায় দলের ভেতরেই ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে ডিলার নিয়োগের এই গোপন তালিকা ফাঁসের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম রাঙ্গা তা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। অন্যদিকে পীরগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াসমিন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জায়িদ ইমরুল মোজাক্কিন জানিয়েছেন, উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তালিকা তাদের দপ্তরে জমা দেওয়া হয়নি। তারা স্পষ্ট করেছেন যে, সার ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করে কমিটির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং দলীয় তালিকা গ্রহণ করার কোনো সুযোগ নেই।