শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৩ পূর্বাহ্ন

ঝুলে আছে স্থাপনা থেকে শেখ পরিবারের নাম বদলের সিদ্ধান্ত

শিক্ষা ডেস্ক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আবাসিক হল ও স্থাপনা থেকে শেখ পরিবারের নাম অপসারণের প্রক্রিয়া গত ছয় মাস ধরে প্রশাসনিক জটিলতায় থমকে রয়েছে। গত জুলাই মাসের গণঅভ্যুথানের পর শিক্ষার্থীদের জোরালো দাবির মুখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ডাকসুর উদ্যোগে এই পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী সিন্ডিকেটের অনুমোদন শেষে প্রস্তাবটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সিনেটে পাঠানো হলেও সেখানে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই তা আবার ফেরত পাঠানো হয়। এর ফলে বিষয়টি বর্তমানে এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে ঘুরপাক খাচ্ছে এবং কবে নাগাদ এর সুরাহা হবে, তা নিয়ে তীব্র অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের মধ্যে স্পষ্ট অবস্থানের অভাবে শিক্ষার্থীদের এই আকাঙ্ক্ষা এখনো আলোর মুখ দেখেনি।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, শেখ মুজিবুর রহমান হল, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল, শেখ রাসেল টাওয়ার, বঙ্গবন্ধু টাওয়ার এবং ইনস্টিটিউট অব লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির শহীদ অ্যাথলেট সুলতানা কামাল হোস্টেলের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছিল। শিক্ষার্থীদের একাংশের অভিযোগ, এই নামগুলো বিগত সরকারের রাজনৈতিক আধিপত্যের প্রতীক হিসেবে রয়ে গেছে। ডাকসুর পক্ষ থেকেও এসব স্থাপনার নতুন নামকরণের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছিল। যেমন, শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম শহীদ ওসমান হাদি বা কাজী নজরুল ইসলাম এবং বঙ্গমাতা হলের নাম ক্যাপ্টেন সিতারা বেগম করার প্রস্তাব আলোচনায় আসে। তবে কোন নাম চূড়ান্ত হবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় তা বাস্তবায়িত হবে, তা নিয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যেও নানা মতভেদ রয়েছে।

গত ২৯ জুন অনুষ্ঠিত সিনেট অধিবেশনে বিষয়টি তোলার পর দীর্ঘ আলোচনা হলেও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। উল্টো অধিবেশন থেকে প্রস্তাবটি পুনরায় সিন্ডিকেটে ফেরত পাঠানো হয়, যা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ডাকসুর প্রতিনিধিরা। ওই সময় প্রতিবাদস্বরূপ ডাকসুর পাঁচ সিনেট সদস্য অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেন। পরবর্তীতে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভাতেও বিষয়টি আলোচ্যসূচিতে স্থান পায়নি, যা প্রশাসনের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম অভিযোগ করেছেন যে, সমস্ত আনুষ্ঠানিক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা তৈরি করে ইচ্ছাকৃতভাবে সিদ্ধান্তটি ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে। একই ধরনের ক্ষোভ প্রকাশ করে ডাকসুর এজিএস মুহাম্মদ মহিউদ্দিন খান জানিয়েছেন, নাম পরিবর্তনের বিষয়ে সবাই একমত হলেও বর্তমান প্রশাসন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিষয়টিকে দীর্ঘায়িত করছে।

এদিকে স্থাপনাগুলোর নাম পরিবর্তন নিয়ে চলমান এই টানাপোড়েনের মধ্যে সম্প্রতি হলের নামফলক ও দেয়াল থেকে নাম মুছে ফেলার ঘটনাও বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। প্রক্টর অফিসের দাবি অনুযায়ী গেটে রং করার সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে নাম মুছে গেছে, তবে ছাত্রনেতাদের অভিযোগ এটি একটি পরিকল্পিত ঘটনা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বর্তমান অবস্থান অনুযায়ী, সিন্ডিকেট কেবল নাম পরিবর্তনের সুপারিশ করবে এবং চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে সিনেট। তবে পরবর্তী সিন্ডিকেট সভায় এই ফাইলটি আদৌ উঠবে কি না, সে বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম সুনির্দিষ্ট কোনো আশ্বাস দিতে পারেননি। সব মিলিয়ে, শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের এই দাবি পূরণের প্রক্রিয়াটি ফাইল চালাচালির মারপ্যাঁচে পড়ে এখন চরম স্থবিরতার শিকার হয়েছে।


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: