মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০১ অপরাহ্ন
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি : লক্ষ্মীপুরে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে আটক, শারীরিক নির্যাতন, বিদ্যুৎ শক দেওয়া এবং ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে ৭০ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ তুলেছেন সাবেক ছাত্রনেতা মো. আব্দুর রহমান বিপ্লব। এ ঘটনায় তৎকালীন লক্ষ্মীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লোকমান হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা, বিচার এবং ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন তিনি।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে লক্ষ্মীপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন আব্দুর রহমান বিপ্লব। তিনি লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক ক্যাম্পাস সেক্রেটারি ছিলেন বলে জানান।
লিখিত বক্তব্যে বিপ্লব অভিযোগ করেন, ২০১৮ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সকালে তৎকালীন ওসি লোকমান হোসেনের নির্দেশে পুলিশ লক্ষ্মীপুর শহরের উত্তর তেমুহনী এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করে। এ সময় তাঁর চোখ বেঁধে হাতকড়া পরানো হয়। পরে থানায় নিয়ে তাঁকে শারীরিক নির্যাতন করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।
বিপ্লবের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ৫ জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তাঁকে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে তাঁকে বিদ্যুৎ শক দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে গভীর রাতে পুলিশ সদস্যরা তাঁকে গাড়িতে করে রামগতি উপজেলার চর আলেকজান্ডার বেড়িবাঁধ এলাকায় নিয়ে যান। সেখানে মারধরের পাশাপাশি তাঁকে হত্যার ভয় দেখিয়ে শেষ ইচ্ছার কথা জানতে চাওয়া হয় বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরে তাঁকে রামগতি থানায় নিয়ে নির্যাতন করা হয় এবং শরীরে ইনজেকশন পুশ করা হয়। এরপর লক্ষ্মীপুর সদর থানায় নেওয়ার পর তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। একপর্যায়ে তাঁকে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বিপ্লব দাবি করেন, তাঁকে ক্রসফায়ার থেকে বাঁচাতে এক কোটি টাকা দিতে হবে বলে তাঁর বাবার কাছে দাবি করেন তৎকালীন ওসি লোকমান হোসেন। পরে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ৭০ লাখ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তাঁর অভিযোগ, সকাল ১০টার আগেই তাঁর বাবার কাছ থেকে ওই টাকা নেওয়া হয়। এ সময় তাঁর বাবা, মা ও নিকটাত্মীয়রা উপস্থিত ছিলেন বলে জানান তিনি।
বিপ্লব বলেন, শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সাত থেকে আটটি মামলায় আসামি দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয় তাঁকে। এর মধ্যে দুটি মামলায় ১০ দিন করে মোট ২০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হলে আদালত তা নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এসব ঘটনার কারণে শারীরিক, মানসিক ও আর্থিকভাবে ব্যাপক ক্ষতির শিকার হয়েছেন দাবি করে আব্দুর রহমান বিপ্লব বলেন, তাঁর পরিবারেরও কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বিপ্লবের সঙ্গে উপস্থিত কয়েকজন ভুক্তভোগীও তাঁদের বিরুদ্ধে অতীতে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে নির্যাতন, চাঁদাবাজি ও হয়রানির অভিযোগ তুলে ধরেন। তাঁদের দাবি, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা চাকরিতে বহাল রয়েছেন।
এ সময় আব্দুর রহমান বিপ্লবসহ ভুক্তভোগীরা তৎকালীন ওসি লোকমান হোসেন ও সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের, অভিযোগ তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা এবং ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানান।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত সাবেক ওসি লোকমান হোসেন কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে স্বাধীন তদন্ত বা আদালতের কোনো সিদ্ধান্তের তথ্যও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়নি।
প্রসঙ্গত, সাবেক ওসি লোকমান হোসেন বর্তমানে পুলিশের আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নে (এপিবিএন) কর্মরত রয়েছেন বলে জানা গেছে।