মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২০ অপরাহ্ন

চক্ষু ও চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়ে দুর্গম পাহাড়ে সেনাবাহিনীর বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা

জাতীয় ডেস্ক: খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার একটি দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় আধুনিক চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এর অংশ হিসেবে বর্মাছড়ি ইউনিয়নের বড়পাড়া এলাকায় দিনব্যাপী এক বিনা মূল্যের মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালিত হয়। যোগাযোগব্যবস্থার চরম অবনতি এবং চিকিৎসাসুবিধার অভাবে দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহানো স্থানীয় বাসিন্দারা এই উদ্যোগের মাধ্যমে সরাসরি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। লেলাং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই ক্যাম্পে পাহাড়ি ও বাঙালি উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।

এই স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমে সেনাবাহিনীর নিজস্ব চিকিৎসকদের পাশাপাশি খাগড়াছড়ি থেকে আসা বিশেষায়িত চিকিৎসকরাও রোগীদের সেবা দেন। ক্যাম্পে আসা রোগীদের সাধারণ স্বাস্থ্য পরীক্ষার পাশাপাশি মূলত চোখ ও চর্মরোগের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশিষ্ট চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ কেয়াচিং মারমা এবং চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ত্রিলোক চাকমা দিনভর রোগীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন এবং প্রয়োজনীয় ওষুধপত্রসহ চিকিৎসাসংক্রান্ত পরামর্শ প্রদান করেন। দুর্গম অঞ্চলের প্রত্যন্ত জনপদে এ ধরনের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবা পেয়ে স্থানীয় সাধারণ মানুষ অত্যন্ত উপকৃত হয়েছেন এবং স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।

উদ্বোধন ও চিকিৎসাকাজের পুরো সময়টিতে সেনাবাহিনীর স্থানীয় উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে পুরো কার্যক্রম তদারকি করেন। এ সময় লক্ষ্মীছড়ি জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল খান সজিবুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত উপ-অধিনায়ক মেজর নাহিয়ান ইমতিয়াজ, বর্মাছড়ি ক্যাম্পের কমান্ডার ক্যাপ্টেন রিফাত ইবনে আলম এবং মেডিকেল অফিসার ক্যাপ্টেন শাকিল উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বর্মাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুইসালা চৌধুরীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও ক্যাম্পে উপস্থিত থেকে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমের সার্বিক খোঁজখবর নেন।

বর্মাছড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সুইসালা চৌধুরী গণমাধ্যমকে জানান, পার্বত্য অঞ্চলের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিয়মিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তারা রাস্তাঘাট নির্মাণ, বিশুদ্ধ পানির সুব্যবস্থা, শিক্ষা বিস্তার এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থানমূলক প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে। সেনাবাহিনীর এসব জনকল্যাণমুখী ও সেবামূলক কার্যক্রম এলাকার সাধারণ মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নে অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, পাহাড়ি অঞ্চলের সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং তাদের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়াই তাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। লক্ষ্মীছড়ি জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল খান সজিবুল ইসলাম বলেন, ভবিষ্যতেও এই ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের ধারা অব্যাহত থাকবে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকাগুলোতে নিয়মিত এ ধরনের চিকিৎসা শিবিরের আয়োজন করা হলে প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত হবে এবং বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে সম্প্রীতি ও পারস্পরিক আস্থার সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: