বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৪৩ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
আনন্দ–বিষাদে দেবী দুর্গাকে বিদায়, বিসর্জন দেখতে কক্সবাজার সৈকতে লাখো মানুষের ঢল ভারত সফরে রুবিও, কেন জামনগরে নজর যুক্তরাষ্ট্রের রাজশাহীতে আখচাষিদের প্রণোদনা তালিকায় বিএনপির এমপি চাঁদের নাম, বিতর্ক তুঙ্গে ‘নজিরবিহীন নিরাপত্তা ঝুঁকি থেকেই বদর প্রতিরক্ষা চুক্তি’ চট্টগ্রাম বন্দর: ইজারার চুক্তি সংসদে আলোচিত হলো না কেন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ২০১৩ সালের গণআন্দোলনের ইতিহাস সংকলনের উদ্যোগ দাম্মাম রুটে বিমানের ফ্লাইট চালু, ২৫ অক্টোবর থেকে রিয়াদে আসামে মুসলিমদের ১১০০ ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার নিন্দা নাহিদ ইসলামের ‘তারেক রহমান প্রতিশ্রুতি দিলে বাস্তবায়ন করেন, দুর্গাপূজার নিরাপত্তা তার প্রমাণ’ শৈশবের দুর্গাপূজা: আনন্দের এক অন্য জগৎ

রাজশাহীতে আখচাষিদের প্রণোদনা তালিকায় বিএনপির এমপি চাঁদের নাম, বিতর্ক তুঙ্গে

রাজনীতি ডেস্ক: রাজশাহীতে আখচাষিদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি প্রণোদনার তালিকায় সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়াকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। রাজশাহী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এবং রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনের এই সংসদ সদস্য প্রণোদনা প্রাপ্তদের তালিকার প্রথম সারিতে অবস্থান করায় বিষয়টি স্থানীয় পর্যায়ে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাজশাহীর হাজী মুহাম্মদ মহসীন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আখচাষিদের মাঝে এই আর্থিক সহায়তার কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রাজশাহী অঞ্চলের ১৫টি সুগার মিল জোনের প্রায় ৩৮ হাজার ৯৭০ জন নিবন্ধিত আখচাষির জন্য সর্বমোট ১২ কোটি টাকার সরকারি প্রণোদনা বরাদ্দ করা হয়েছে।

প্রণোদনা গ্রহণের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই মূলত রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন যে, একজন সচ্ছল জনপ্রতিনিধি ও সংসদ সদস্য হয়েও সরকারি প্রণোদনার অর্থ গ্রহণ করা কতটা নৈতিক ও যৌক্তিক হয়েছে। সমালোচকদের মতে, এই প্রণোদনার অর্থ যদি কোনো দরিদ্র ও প্রান্তিক চাষি পেতেন, তবে তারা আর্থিকভাবে বেশি উপকৃত হতে পারতেন। তবে এই বিতর্কের জবাবে আবু সাঈদ চাঁদ দাবি করেছেন যে, তিনি শুধু একজন জনপ্রতিনিধিই নন, বরং তিনি ও তার পরিবার বংশপরম্পরায় কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত এবং তিনি একজন নিবন্ধিত আখচাষিও বটে।

নিজের কৃষিজীবী সত্তার পক্ষে যুক্তি দিয়ে আবু সাঈদ চাঁদ জানিয়েছেন যে, বাপ-দাদার আমল থেকেই তাদের পরিবার আখ চাষ করে আসছে এবং তিনিও নিয়মিতভাবে রাজশাহী সুগার মিলে আখ সরবরাহ করে থাকেন। একজন নিবন্ধিত চাষি হিসেবে আইনসম্মতভাবেই তিনি অন্যান্য কৃষকদের মতো এই প্রণোদনার চেক গ্রহণ করেছেন বলে তার দাবি। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, আখ চাষ এবং জনপ্রতিনিধিত্বের বিষয়টি সম্পূর্ণ আলাদা দুটি বিষয় এবং এ বিষয়ে রাজশাহী সুগার মিল কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক প্রমাণ ও নথিপত্র রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে পক্ষে-বিপক্ষে নানা ধরনের আলোচনা ও মন্তব্যের ঝড় বইতে দেখা গেছে।

এই পুরো ঘটনাটি আখচাষিদের জন্য সরকারি সহায়তা বিতরণের ক্ষেত্রে দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে, যার একটি হলো শর্তপূরণ এবং অন্যটি হলো নৈতিকতা। প্রথমত, তিনি প্রণোদনা পাওয়ার দাপ্তরিক শর্তসমূহ যথাযথভাবে পূরণ করেছেন কি না এবং দ্বিতীয়ত, যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও একজন আর্থিকভাবে সচ্ছল জনপ্রতিনিধির এমন সহায়তা গ্রহণ করা জনস্বার্থের অনুকূলে কতখানি তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সরকারি প্রণোদনা বিতরণে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত উপকারভোগী নির্বাচনের প্রক্রিয়াটি আরও স্পষ্টভাবে জনসমক্ষে তুলে ধরা।


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: