শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২১ অপরাহ্ন
জাতীয় ডেস্ক: সাধারণ মানুষের জন্য সরকারি দপ্তরের দরজা আরও উন্মুক্ত করার এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ দেখা গেছে কুমিল্লার বরুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে। প্রচলিত নিয়মের বাইরে গিয়ে সেখানকার প্রবেশদ্বারে টাঙানো হয়েছে একটি বিশেষ বার্তা, যেখানে বলা হয়েছে অফিসে ঢুকতে কোনো পূর্বানুমতি লাগবে না এবং জুতা খুলেও প্রবেশ করতে হবে না। এই অভিনব পদক্ষেপটি সাধারণ সেবাপ্রত্যাশীদের মধ্যে বেশ কৌতূহল ও ইতিবাচক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। উপজেলা প্রশাসন ও সাধারণ জনগণের মধ্যকার দূরত্ব কমিয়ে আনার লক্ষ্যেই মূলত এই ব্যতিক্রমী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
এর মাধ্যমে মূলত সেবাপ্রত্যাশীদের জুতা বাইরে রেখে যাওয়ার প্রচলিত বাধ্যবাধকতা এবং কর্মকর্তার কক্ষে প্রবেশের আগে আলাদাভাবে অনুমতি নেওয়ার বিড়ম্বনা পুরোপুরি দূর করা হয়েছে। সাধারণত সরকারি কার্যালয়গুলোতে সাধারণ মানুষ একধরনের মানসিক দ্বিধা ও সংকোচ নিয়ে প্রবেশ করেন, যা কাটিয়ে ওঠার ক্ষেত্রে এই বার্তাটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে। ছোট্ট এই উদ্যোগের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয় যে সরকারি দপ্তরগুলো মূলত জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্যই পরিচালিত হয়ে থাকে।
স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের এমন জনবান্ধব সিদ্ধান্তের ভূয়সী প্রশংসা করে জানিয়েছেন যে, এর ফলে সাধারণ মানুষ এখন থেকে কোনো ধরনের দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীর সাহায্য ছাড়াই সরাসরি নিজেদের সমস্যার কথা তুলে ধরতে পারবেন। অনেক সময় সঠিক তথ্যের অভাবে বা ভয়ের কারণে মানুষ সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত হন, যা এই ধরনের উন্মুক্ত পরিবেশের কারণে অনেকটাই কমে আসবে। সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, এই উদ্যোগের ফলে প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষের আস্থার সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় ও মানবিক হয়ে উঠবে।
এ বিষয়ে বরুড়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান রনি জানিয়েছেন যে, সরকারি দপ্তরগুলো জনগণের জন্যই তৈরি এবং এখানকার প্রতিটি কর্মকর্তা জনগণের সেবক মাত্র। সাধারণ মানুষ যেন কোনো রকম ভয়ভীতি বা দ্বিধা ছাড়াই তাঁদের প্রয়োজনীয় চাহিদা ও অভিযোগের কথা খোলামেলাভাবে ব্যক্ত করতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতেই এই বার্তাটি দেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের ভোগান্তি ছাড়াই যেন নাগরিকরা সহজে প্রশাসনিক সেবা গ্রহণ করতে পারেন, সেটাই তাঁর প্রধান প্রত্যাশা বলে তিনি উল্লেখ করেন।