রবিবার, ২৮ Jun ২০২৬, ১০:০৫ অপরাহ্ন

শিরোনাম
মার্কিন বিমানঘাঁটি ও পঞ্চম নৌবহরে হামলার দাবি আইআরজিসির আজ থেকে চালু ভারতের পর্যটন ভিসা, যেভাবে আবেদন করবেন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইরান ফিরছে মাথা উঁচু করে সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের যুববিভাগের উদ্যোগে মাদকবিরোধী র‍্যালি অনুষ্ঠিত র‌্যাব-৭ অভিযানে প্রায় ৩০০ কেজি গাঁজা উদ্ধার, নারীসহ গ্রেপ্তার-৪ উজিরপুর আলোচিত, সমালোচিত স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ এস এম মাইদুল ইসলামের বদলি ফুলবাড়ীতে ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন উপলক্ষে এ্যাডভোকেসি সভা নড়াইল জেলা পরিষদের ৩৮ কোটি টাকা বাজেট ঘোষণা কাশিয়ানীতে মাদ্রাসার মোহতামিমের বিরুদ্ধে শিশু ধর্ষণের অভিযোগে মামলা ও গ্রেফতার লক্ষ্মীপুরে ইউনিয়ন যুবদলের কর্মী সভা অনুষ্ঠিত

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাইরে আরেক ঝামেলা, আইসিসিকেই দায়ী করছে বাংলাদেশ

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে বাদ দেওয়া নিয়ে বিতর্কের রেশ এখনো কাটেনি। এরমধ্যে চলমান অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে নিয়ে আইসিসিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কর্মকর্তারা।

যুব বিশ্বকাপে বাংলাদেশের একটি ম্যাচ বাকি থাকলেও গত সোমবার সুপার সিক্সে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হেরেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের। টুর্নামেন্টে ক্রিকেটারদের বাজে পারফরম্যান্সসহ আরও নানান বিষয়ে সমালোচনা থাকলেও বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্ট কো-অর্ডিনেটর হাবিবুল বাশার সুমন জানান, আইসিসির ‘অন্যায্য’ ভ্রমণ সূচিতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল বাংলাদেশ দল।

পারফরম্যান্সের পাশাপাশি বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে বাংলাদেশ ঠিকঠাক হিসাব-নিকাশ করতে খেলতে পারেনি বলেও সমালোচনা চলছে টিম ম্যানেজমেন্টকে নিয়ে। তবে সেসব একদিকে সরিয়ে ভ্রমণ সূচিকেই দায় দিয়েছেন বাশার।

দেশীয় ইংরেজি সংবাদমাধ্যম ডেইলি স্টারের সঙ্গে আলাপকালে বিসিবির এ গেম ডেভেলপমেন্ট কো-অর্ডিনেটর বলেছেন, ‘লোকে এটাকে অজুহাত মনে করতে পারে, কিন্তু আমি এই ভ্রমণ সূচির বিষয়টি তুলে ধরতে চাই। ইংল্যান্ড ও ভারতের বিপক্ষে আমাদের হিসেবে ভুল ছিল ঠিকই, কিন্তু বারবার যাতায়াত ছেলেদের ক্লান্ত করে দিয়েছিল।’

বিশ্বকাপের মূল পর্ব শুরুর আগে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। ৬ জানুয়ারি জিম্বাবুয়ে যাওয়ার পর ১০ ও ১৩ জানুয়ারি দুটি ভিন্ন ভেন্যু মাসভিঙ্গো ও হারারেতে ওই দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেন আজিজুল হাকিমরা। ওই দুটি ম্যাচ একই ভেন্যুতে খেলার কথা ছিল বলে অভিযোগ তোলেন বাশার।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘হঠাৎ সূচি বদলে আমাদের ওপর যাতায়াতের বাড়তি চাপ দেওয়া হয়। আমরা প্র্যাকটিস ম্যাচগুলো সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করলেও আইসিসি তাতে কর্ণপাত করেনি।’

প্রায় চার ঘণ্টার সড়ক পথ পাড়ি দিয়ে প্রস্তুতি ম্যাচ দুটি খেলে বাংলাদেশ। এরপর ১৭ ও ২০ জানুয়ারির গ্রুপ পর্বের ম্যাচ খেলতে হারারে থেকে বুলাওয়েতে যেতে ৯ ঘণ্টার পথ পাড়ি দিতে হয়। অবশ্য বিসিবি থেকে একটি চার্টার্ড ফ্লাইটের ব্যবস্থা করলেও ধকল পুরোপুরি এড়ানো যায়নি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে বাশার বলেছেন, ‘ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের আগে ছেলেরা যেন অতিরিক্ত ক্লান্ত না হয়ে পড়ে, সে জন্য বাসযাত্রা দীর্ঘ হওয়ায় এবং সরাসরি ফ্লাইট কম থাকায় বিসিবি নিজেদের খরচে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের ব্যবস্থা করেছিল।’

গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের প্রথম দুটি ম্যাচ ছিল বুলাওয়েতে। এরপর শেষ ম্যাচটি হারারেতে খেলে আবার সুপার সিক্সের প্রথম ম্যাচটা খেলতে বুলাওয়েতে যেতে হয় বাংলাদেশ দলকে। টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ শেষ ম্যাচটা খেলতে আবার হারারেতে যাবে।

বাংলাদেশকে ম্যাচ খেলতে এভাবে বুলাওয়ে-হারাতে দৌড়ের ওপর থাকতে হচ্ছে। অন্যদিকে ভারত গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচ বুলাওয়েতে খেলেছে। সুপার সিক্সে ভারতের দুটি ম্যাচই হারারেতে। অর্থাৎ একেকবার একেকদিকে যাওয়ার ঝক্কি নেই। শুধু ভারত নয়, পাকিস্তান, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়ার মতো দলগুলোও সূচিতে সুবিধা পেয়েছে- এমনটা উল্লেখ করেছে খোদ ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি। বাংলাদেশ যুব দলের কোচ নাভিদ নেওয়াজও এমন সূচি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

বাংলাদেশের জন্য এই ভ্রমণসূচিকে অন্যায্য উল্লেখ করে বাশার বলেছেন, ‘আমাদের জন্য এই সূচি ছিল খুবই অন্যায্য। শুরুর সূচি অনুযায়ী, আমাদের দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ মাসভিঙ্গোতে খেলার কথা ছিল। এরপর চার ঘণ্টার সড়কপথ পাড়ি দিয়ে বুলাওয়েতে গিয়ে গ্রুপ পর্বের প্রথম দুটি ম্যাচ খেলার কথা ছিল। আইসিসি হঠাৎ করে সূচি বদলালে আমাদের প্রস্তুতি ম্যাচ দুটি ভিন্ন ভিন্ন ভেন্যুতে খেলতে হয় এবং বারবার যাতায়াত করতে হয়েছে।’

হাবিবুল বাশার আরও বলেন, ‘টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই আমরা তাদের বিষয়টির (ভ্রমণ–সংক্রান্ত চাপের) কথা জানিয়েছিলাম। বারবার যাতায়াত এড়াতে অনুশীলন ম্যাচের ভেন্যু বদলানোর অনুরোধ করেছিলাম, কিন্তু তারা শোনেনি। একবার টুর্নামেন্ট শুরু হয়ে গেলে এসব বদলানো আর সম্ভব হয় না।’


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: