শনিবার, ২৭ Jun ২০২৬, ০২:৪৩ অপরাহ্ন
টরন্টো সংবাদাতা: কানাডার টরন্টোর বাঙালি কমিউনিটির অত্যন্ত প্রিয় মুখ মাছুমুর রহমান বাপ্পী এবার ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের মঞ্চে ভলেন্টিয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেলেন। ছোটবেলা থেকেই ফুটবলের প্রতি গভীর ভালোবাসা ছিল তাঁর। সেই স্বপ্নই এবার নতুনভাবে পূরণ হতে চলেছে।
পেশায় একজন চাকরিজীবী, হোটেল শেরাটনের দীর্ঘদিনের Hospitalityর অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েছেন তিনি। তবে ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা কোনওদিন কমেনি। এবারের বিশ্বকাপটি যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে যা সত্যিই একটি মেগা ইভেন্ট।
গত বছরের ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে ফিফার ভলেন্টিয়ার প্রোগ্রামে অনলাইনে আবেদন করেন তিনি। জানা গিয়েছে, বিশ্বজুড়ে প্রায় ১০ লক্ষেরও বেশি আবেদন জমা পড়েছিল। সেখান থেকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়ে সেই তালিকাতেই জায়গা করে নিয়েছেন বাংলাদেশী কানাডিয়ান বাপ্পি রহমান।
২০২৬ FIFA World Cup-এর ভলেন্টিয়ার প্রোগ্রামে পুরো কানাডা থেকে প্রায় ৩ লাখ ৮৭ হাজার আবেদন জমা পড়েছিল। এর মধ্যে শুধু টরন্টো থেকেই আবেদন করেছিলেন প্রায় ২ লাখ ৪৮ হাজার মানুষ। সবশেষে টরন্টো হোস্ট সিটির জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে মাত্র প্রায় ৩ হাজার ভলেন্টিয়ার। অর্থাৎ, টরন্টোতে সুযোগ পাওয়া ছিল অত্যন্ত প্রতিযোগিতাপূর্ণ- গড়ে প্রতি ৮০ জনের বেশি আবেদনকারীর মধ্যে মাত্র ১ জন ভলেন্টিয়ার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।
তিনি বলেন ভলেন্টিয়ার এবং সেবামূলক বিভিন্ন কর্মকান্ডের সাথে আমার যাত্রা শুরু হয়েছিল দেশের মাটিতে, প্রথমে একজন স্কাউট হিসেবে তারপর রোটারি ক্লাব। এছাড়াও, স্বেচ্ছায় রক্তদান, বৃক্ষরোপণ, পোলিও টিকা, ট্রাফিক সপ্তাহ সহ আরো বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সুবাদে আমার আজকের এই অবস্থান।
বাপ্পি রহমান বলেন তার এই যাত্রা মোটেও সহজ ছিল না Application, Selection, Interview, Shift assignment, ব্যাকগ্রাউন্ড চেক সহ অনেক চড়াই উত্রাই পেরিয়ে আসতে হয়েছে তাকে। সব মিলিয়ে এটি ছিল একটি দীর্ঘ ও চ্যালেঞ্জিং পথ। অনেক চেষ্টা, ধৈর্য এবং আল্লাহর ইচ্ছায় অবশেষে আমি সিলেক্টেড হয়েছি এবং আমার সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
এই সুযোগ পাওয়ার খবর প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারেননি তিনি। তাঁর কথায়, এত বড় মঞ্চে কাজ করার সুযোগ পাওয়া স্বপ্নপূরণের সমান। এর আগে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় ও ইভেন্টে ভলেন্টিয়ার হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর।
প্রবাসে একজন কানাডিয়ান বাংলাদেশী হিসেবে ভলেন্টিয়ারিং শুধু সেবামূলক কাজই নয়, এটি নিজের দেশকে ইতিবাচকভাবে বিশ্বের সামনে তুলে ধরার এক অনন্য সুযোগ।
ভলেন্টিয়ারিংয়ের মাধ্যমে যেমন দেশের সম্মান বৃদ্ধি পায়, তেমনি ব্যক্তিগতভাবে নেতৃত্ব, সক্ষমতা ও কমিউনিকেশন দক্ষতাও উন্নত হয়।
বিশ্বকাপ চলাকালীন ভলেন্টিয়ারদের ভলেন্টিয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বাপ্পি রহমান। যাঁদের এতদিন টেলিভিশনের পর্দায় দেখেছেন, এবার তাঁদের সামনে থেকে দেখার সুযোগ পাবেন তিনি। বিশেষ করে প্রিয় ফুটবলার লিওনেল মেসিকে কাছ থেকে দেখার সম্ভাবনায় উচ্ছ্বসিত আমাদের বাপ্পি। যদিও অনেক করা নিয়ম কানুনের মাধ্যমে থাকতে হবে প্রত্যেক ভলেন্টিয়ারদেরকে।
এবার ফিফা বিশ্বকাপের মঞ্চে মেসি, রোনাল্ডো-সহ বিশ্বের একাধিক তারকা ফুটবলারের খেলা কাছ থেকে দেখার অপেক্ষায় দিন গুনছেন তিনি।