বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৩৭ অপরাহ্ন

শিরোনাম
ইরান যুদ্ধের জেরে উত্তপ্ত মার্কিন রাজনীতি, ট্রাম্পকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয়ার দাবি সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা, ভোট ১২ মে বাহরাইনে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের জরুরি সতর্কবার্তা ১৪ বছর পর রিয়ালের বিপক্ষে জয় পেল বায়ার্ন যুদ্ধবিরতির পর তেহরানে বিশাল সমাবেশ সংরক্ষিত নারী আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় লেখক ও রাজনৈতিক পর্যটন শিল্পের উন্নয়নের সমন্বিত উদ্যোগ ও কৌশলগত রূপরেখা রয়েছে জয়দেবপুর বাজার ও টঙ্গীতে আগুনে পুড়ে যাওয়া বস্তি পরিদর্শনে গাসিক প্রশাসক নড়াইলের লোহাগড়ায় দাফনের ৭ মাস পর কবর থেকে মুকুলের মরদেহ উত্তোলন ‘আজ রাতেই একটি পুরো সভ্যতা শেষ হতে পারে’: ইরানকে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি

জ্বালানি নিয়ে হঠাৎ হাহাকার—বাস্তবতা, গুজব ও মজুতদারদের সুযোগসন্ধানী খেলা – কে এম মোবারক

হঠাৎ করেই বাজারে পেট্রোল, ডিজেল ও অকটেন নিয়ে এক ধরনের হাহাকার শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের গুজব ও আতঙ্ক ছড়ানো হচ্ছে—কোথাও বলা হচ্ছে জ্বালানির ঘাটতি হবে, আবার কোথাও বলা হচ্ছে দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাবে। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি ঠান্ডা মাথায় বিশ্লেষণ করা জরুরি।

সম্প্রতি বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং জ্বালানি সরবরাহ রুট নিয়ে আলোচনা বাড়ায় অনেকের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহ কাঠামো অনেক দেশের তুলনায় কিছুটা ভিন্ন। দেশে ব্যবহৃত পেট্রোলিয়াম পণ্যের একটি অংশ অপরিশোধিত তেল আমদানি করে স্থানীয়ভাবে পরিশোধন করা হয়, আর বড় অংশই সরাসরি পরিশোধিত জ্বালানি—যেমন ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল ও জেট ফুয়েল—হিসেবে আমদানি করা হয়।

বিশেষ করে অকটেনের বড় অংশ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার রিফাইনিং হাব—যেমন সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও চীন থেকে আসে। এসব জ্বালানি সাধারণত মালাক্কা প্রণালী হয়ে বঙ্গোপসাগর দিয়ে বাংলাদেশে পৌঁছে। অর্থাৎ সরাসরি হরমুজ প্রণালীর উপর আমাদের সরবরাহ পুরোপুরি নির্ভরশীল নয়। তাই তাৎক্ষণিকভাবে জ্বালানি সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা খুব বেশি নয়।

তবে এটাও সত্য যে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লে তার প্রভাব শেষ পর্যন্ত সব দেশেই পড়ে। কারণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের একটি বড় অংশের তেল পরিবাহিত হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে আমাদের আমদানিকৃত জ্বালানির দামও বাড়তে পারে—এটাই বাস্তবতা।

বর্তমানে দেশে অকটেনের খুচরা মূল্য প্রায় ১২২ টাকা প্রতি লিটার এবং সরবরাহেও বড় ধরনের ঘাটতির খবর নেই। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়তে থাকলে মাসিক price adjustment ব্যবস্থার কারণে ভবিষ্যতে কিছুটা মূল্যবৃদ্ধি হওয়া অস্বাভাবিক নয়।

কিন্তু এই বাস্তবতার আড়ালে আরেকটি প্রশ্ন সামনে আসছে—হঠাৎ করে কেন বাজারে এত আতঙ্ক ছড়ানো হচ্ছে? কিছু অসাধু মজুতদার বা সিন্ডিকেট কি পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছে? ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ উঠছে, সুযোগ নিয়ে কোথাও কোথাও ডিজেল লিটারপ্রতি ৬০ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে বা মজুত করা হচ্ছে। যদি এমনটা সত্যি হয়, তাহলে এই অসৎ সুবিধা নিয়ে কিছু কুলাঙ্গার অল্প সময়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিতে পারে।

এ অবস্থায় গুজব ছড়িয়ে আতঙ্ক তৈরি না করে বরং সরকারের উচিত একটি শক্তিশালী monitoring cell গঠন করা। যাতে বাজারে মজুতদারি, সিন্ডিকেট ও কৃত্রিম সংকট তৈরির যে কোনো চেষ্টা দ্রুত শনাক্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

জ্বালানি নিয়ে অযথা আতঙ্ক নয়—স্বচ্ছ তথ্য, কঠোর নজরদারি এবং দায়িত্বশীল আচরণই এখন আমাদের দাবি।

কে এম মোবারক উল্ল্যাহ শিমুল-
বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক, লক্ষ্মীপুর জেলা যুবদল, ছাত্রদল।


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: