রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ০২:১৬ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
তৃণমূলের অভিষেকের ওপর হামলা, শার্ট ছিঁড়ে ডিম-জুতা নিক্ষেপ চৌদ্দগ্রাম উপজেলা বিএনপির ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত নড়াইলে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫ তম শাহাদাত বার্ষিকী পালিত রিকাবীবাজারে পুনঃ খাল খনন কার্যক্রম পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক শাহাদাত বার্ষিকীতে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী আজ লক্ষ্মীপুরে ড. মুজাফফর আহমদ চৌধুরী স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন কুরবানিতে ২২ থেকে ২৩ লাখ পশু অবিক্রীত ট্রাম্পের ১.৮ বিলিয়ন ডলারের তহবিল স্থগিত কাপুর পরিবারে আবার বিয়ের ঘণ্টাধ্বনি, পাত্রী কে

উপকূলের মানুষের প্রাণের দাবি—লক্ষ্মীপুরে আধুনিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল: মোবারক উল্ল্যাহ শিমুল

বাংলাদেশের উপকূলীয় ও অবহেলিত জনপদগুলোর মধ্যে লক্ষ্মীপুর জেলা একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম। প্রায় ১৯ লাখ ৩৭ হাজার ৯৪৮ জন মানুষের বসবাস এই জেলায়। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও নদীভাঙনের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করে এখানকার মানুষ জীবনযাপন করছে। তবে এত বড় জনগোষ্ঠীর জন্য এখনো গড়ে ওঠেনি কোনো আধুনিক ও উন্নতমানের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান—যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক।

শিক্ষার দিক থেকে লক্ষ্মীপুরের মানুষ অনেক এগিয়ে থাকলেও স্বাস্থ্যসেবায় রয়েছে চরম বৈষম্য। জটিল বা উন্নত চিকিৎসার জন্য রোগীদের ছুটতে হয় নোয়াখালী বা রাজধানী ঢাকায়। এতে সময় ও অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রে জীবনও ঝুঁকির মুখে পড়ে।

এই বাস্তবতায় লক্ষ্মীপুরে একটি আধুনিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। এটি শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, বরং একটি রূপান্তরমূলক উন্নয়ন উদ্যোগ (transformational development initiative) হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

বিশ্বের বিভিন্ন উদাহরণে দেখা যায়, একটি মানসম্মত মেডিকেল প্রতিষ্ঠান একটি অঞ্চলের সামগ্রিক চিত্র বদলে দিতে পারে। ভারতের ভেলোরে অবস্থিত ক্রিশ্চিয়ান মেডিকেল কলেজ (CMC) তার অন্যতম উদাহরণ। একসময় পিছিয়ে থাকা এই শহরটি এখন আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা, শিক্ষা ও গবেষণার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

লক্ষ্মীপুরে একটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা হলে সম্ভাব্য পরিবর্তনগুলো হতে পারে—

সামাজিক উন্নয়ন:
মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত হলে জীবনমান উন্নত হবে, মাতৃ ও শিশুমৃত্যু হ্রাস পাবে এবং একটি সুস্থ সমাজ গড়ে উঠবে।

অর্থনৈতিক অগ্রগতি:
হাসপাতালটি সরাসরি ও পরোক্ষভাবে হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও আসবে নতুন গতি, গড়ে উঠবে একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক কেন্দ্র।

শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন:
স্থানীয় শিক্ষার্থীরা নিজ জেলায় মেডিকেল শিক্ষার সুযোগ পাবে, তৈরি হবে দক্ষ মানবসম্পদ এবং গবেষণার নতুন ক্ষেত্র।

আঞ্চলিক ভারসাম্য:
এটি উন্নয়নের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করবে এবং উপকূলীয় জনগণের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা অনেকাংশে দূর করবে।

বর্তমান সরকার স্বাস্থ্যখাতে যে উন্নয়নমূলক অঙ্গীকার করেছে, তার বাস্তবায়নে লক্ষ্মীপুর একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হতে পারে। লক্ষ্মীপুর-রায়পুর আসনের সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভুঁইয়া ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদে একটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন এবং এর জন্য জমি দেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন।

স্থানীয়দের মতে, সরকার উদ্যোগ নিলে জমি কোনো বড় বাধা নয়; প্রয়োজন কেবল একটি সুদূরপ্রসারী সিদ্ধান্ত ও দ্রুত বাস্তবায়ন।

লক্ষ্মীপুর জেলার সচেতন নাগরিক ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কে এম মোবারক উল্ল্যাহ শিমুল বলেন, একটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এই অঞ্চলের মানুষের জীবনে আমূল পরিবর্তন আনতে পারে। এটি হবে একটি ‘গেম চেঞ্জার’, যা লক্ষ্মীপুরকে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অর্থনীতিতে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেবে।

তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল শুধু একটি স্থাপনা নয়—এটি হবে লক্ষ্মীপুরের মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতীক।”


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: