শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৪০ অপরাহ্ন
জনস্বার্থে একটি খোলা চিঠি
লক্ষীপুর—ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংগ্রাম ও সম্ভাবনার এক গুরুত্বপূর্ণ জনপদ। কিন্তু আজ এই জেলার উপর নেমে এসেছে এক ভয়ংকর অন্ধকার—মাদক। ইয়াবা, ফেন্সিডিল, আইসসহ নানা মরণনেশার ছোবলে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে একটি পুরো প্রজন্মকে।
এক বছর আগে যখন এই বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছিল, তখন দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা ভিন্ন ছিল। আজ পরিস্থিতি বদলেছে—দেশে একটি নির্বাচিত ও স্থিতিশীল সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। লক্ষীপুরের চারটি আসনেই জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে প্রতিনিধিত্ব দিয়েছেন, এবং সেই প্রতিনিধিরা আজ রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে অধিষ্ঠিত।
বিশেষ করে জনাব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি—বর্তমানে মৎস্য ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী, এবং জনাব আবুল খায়ের ভূঁইয়া—দুজনই আজ শুধু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নন, বরং জনগণের প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দু।
এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্নটি আরও জোরালো হয়ে উঠে—
লক্ষীপুর কি মাদকের কাছে পরাজিত হবে, নাকি নেতৃত্বের দৃঢ়তায় ঘুরে দাঁড়াবে?
আজ বাস্তবতা হলো—
মাদক শুধু শহরে সীমাবদ্ধ নেই; এটি ইউনিয়ন, ওয়ার্ড, এমনকি গ্রাম পর্যায়েও ছড়িয়ে পড়েছে। স্কুল পড়ুয়া কিশোর, বেকার যুবক, কর্মজীবী মানুষ—কেউই এই ছোবল থেকে নিরাপদ নয়। এর ফলে সামাজিক অবক্ষয়, পারিবারিক ভাঙন এবং সহিংসতা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান চলছে, গ্রেফতারও হচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়—
এই লড়াই কি শুধুই “Showdown”, নাকি একটি কার্যকর “Action Plan”?
কারণ, সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি উদ্বেগ স্পষ্ট—প্রকৃত মাদক ব্যবসায়ীরা কতটা আইনের আওতায় আসছে? নাকি মাঝে মাঝে নিরীহ মানুষও হয়রানির শিকার হচ্ছে?
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার নামে কোনো অন্যায় যেন না হয়—এটি নিশ্চিত করাও সমান জরুরি।
*নেতৃত্বের প্রতি সময়োপযোগী আহ্বান
আজ সময় এসেছে সাহসী, সুস্পষ্ট এবং কার্যকর একটি Anti-Drug Strategy গ্রহণ করার।
শুধু অভিযান নয়, প্রয়োজন—
মাদক সরবরাহ চেইন সম্পূর্ণভাবে ভেঙে দেওয়া
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ছত্রছায়া চিহ্নিত করা
তরুণ প্রজন্মের জন্য পুনর্বাসন ও সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করা
আপনাদের রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রশাসনিক ক্ষমতা এবং সাংগঠনিক প্রভাব—এই তিনের সমন্বয়ই পারে লক্ষীপুরকে মাদকমুক্ত করতে।
*সতর্কবার্তা, তবে দায়িত্বশীল অবস্থান মাদক যদি নিয়ন্ত্রণে না আসে, সামাজিক অবক্ষয় এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে যেখানে সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে আইন নিজের হাতে তুলে নিতে বাধ্য হতে পারে।
তবে এটি কোনোভাবেই কাম্য নয়—কারণ দেশে এখন একটি নির্বাচিত সরকার বিদ্যমান, এবং জনগণ বিশ্বাস করে আইন ও রাষ্ট্রই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে।
শেষাংশ, একটি প্রজন্ম আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।
এখন আর দেরি করার সুযোগ নেই।
একটি প্রবাদ আছে—
“Evil triumphs when good men do nothing.”
অর্থাৎ, ভালো মানুষ চুপ থাকলেই মন্দের জয় হয়।
লক্ষীপুরের মানুষ আর চুপ নেই।
তারা দেখছে, বুঝছে এবং অপেক্ষা করছে—
কখন তাদের নির্বাচিত নেতৃত্ব শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
কে এম মোবারক উল্ল্যাহ শিমুল-
বিশিষ্ট ব্যবসায়ী।