বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬, ০৩:৪৩ পূর্বাহ্ন
কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি : গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। এতে করে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ রোগীরা, বিশেষ করে গর্ভবতী নারী ও শিশুরা চরম ঝুঁকিতে রয়েছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. নাজমুন নাহার ইতি। ভুক্তভোগীদের দাবি, তার যোগদানের পর থেকেই হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ভেঙে পড়েছে। রোগীদের জন্য সরবরাহকৃত খাবারের মান অত্যন্ত নিম্নমানের এবং সরকারি সুবিধা থাকা সত্ত্বেও রোগীদের বাইরে থেকে চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে বাধ্য করা হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, দৈনিক ওষুধ সরবরাহ তালিকায় একাধিক ওষুধ থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে রোগীদের দেওয়া হচ্ছে শুধু প্যারাসিটামল, এন্টাসিড, হিস্টাসিন ও আয়রন ট্যাবলেট। প্রয়োজনীয় ওষুধের অভাবে রোগীরা সঠিক চিকিৎসা পাচ্ছেন না।
এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে—ইনজুরি সার্টিফিকেট প্রদানে অনিয়ম ও অর্থ লেনদেন, কম রোগী দেখিয়ে বেশি দেখানোর মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ এবং স্টাফদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের মতো নানা কর্মকাণ্ডের।
ভুক্তভোগী রোগী ও স্বজনরা জানান, ১৯৬৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই হাসপাতালটি ২০১২ সালে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও চিকিৎসাসেবার মানে কোনো উন্নতি হয়নি। বরং দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য বেড়েছে।
ডা. নাজমুন নাহার ইতি ২০১৪ সালে মেডিকেল অফিসার হিসেবে যোগদান করেন এবং ২০১৮ সালে আরএমও পদে পদোন্নতি পান। ২০২১ সালে তার বদলির আদেশ হলেও তা প্রত্যাহার করে পুনরায় এই হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করছেন। সর্বশেষ ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তাকে শোকজ করা হলেও তিনি এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, সরকারি কোয়ার্টারে থাকার নিয়ম থাকলেও তিনি তা মানছেন না। বরং দূরবর্তী এলাকা থেকে এসে দায়িত্ব পালন করছেন এবং কোয়ার্টার অন্য স্টাফদের ব্যবহারের জন্য দিয়েছেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে গেলে ডা. নাজমুন নাহার ইতি কথা বলতে রাজি হননি এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলে অভিযোগ।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সাদিয়া তাসনিম মুনমুন জানান, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা নির্ধারিত সময়ের বেশি ছুটি নিয়েছেন এবং দীর্ঘ সময় কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন, যা নিয়মবহির্ভূত।
গাজীপুরের সিভিল সার্জন ডা. মামুনুর রহমান বলেন, অভিযোগগুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন, যাতে করে হাসপাতালের সেবার মান ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়।