শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬, ১১:৪১ অপরাহ্ন

শিরোনাম
তুরস্ক সম্মেলনে শক্তিশালী গণমাধ্যম ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীর জাতীয় চিড়িয়াখানায় আকস্মিক পরিদর্শনে প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির পুনরুত্থান ও ইতিহাস বিকৃতির বিরুদ্ধে সতর্কতা — কে এম মোবারক  চৌদ্দগ্রামে ব্যবসায়ীকে আটক রেখে চাঁদার দাবিতে দিনভর নির্যাতন গ্রেফতার-২ গজারিয়ায় বিপুল পরিমাণ পরিযায়ী পাখি শিকার: অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাসহ ৬ জনকে জরিমানা পিরিয়ড বা মাসিকের রক্ত জানাতে পারে শরীরের অন্য রোগের তথ্য জুমার দিন যেসব কাজ বর্জনীয় ১০ জনের ফ্রান্সের কাছে ব্রাজিলের হতাশাজনক হার ৩ লাখ টন ডিজেল কেনার সিদ্ধান্ত ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা আরও ১০ দিন স্থগিত করলেন ট্রাম্প

স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির পুনরুত্থান ও ইতিহাস বিকৃতির বিরুদ্ধে সতর্কতা — কে এম মোবারক 

‘এক সাগর রক্তের বিনিময়ে’—এই গানটি শুধু একটি সুর নয়, এটি একটি জাতির আত্মপরিচয়; একটি collective memory, যা বয়ে নিয়ে চলেছে মুক্তিযুদ্ধের গৌরব ও ত্যাগের ইতিহাস। কিন্তু গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, সেই ইতিহাসকেই আজ পরিকল্পিতভাবে আঘাত করা হচ্ছে।

স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে—এবার তারা সরাসরি নয়, বরং কৌশলে, ধীরে ধীরে, একটি সুপরিকল্পিত ideological attack-এর মাধ্যমে জাতির চেতনাকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে। তারা কখনো ‘সংস্কার’-এর নামে, কখনো ‘নতুন ইতিহাস’-এর নামে ১৯৭১-কে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়। এটি শুধু দুঃসাহস নয়, বরং জাতির অস্তিত্বের ওপর আঘাত।

যারা একসময় এই দেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল, তাদের উত্তরসূরিরা আজ নতুন রূপে আবির্ভূত হয়েছে। তারা জানে, সরাসরি মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করলে জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করবে। তাই তারা ইতিহাস বিকৃত করছে, বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, নতুন প্রজন্মকে ভুল পথে পরিচালিত করছে—এটি একটি স্পষ্ট disinformation strategy।

ড. ইউনুস সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর হামলা, অপমান, এমনকি হত্যার ঘটনা প্রমাণ করে—এটি কোনো বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়, বরং একটি ভয়ংকর প্রবণতা। মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য ভাঙা, স্মৃতিচিহ্ন মুছে ফেলা, জাতীয় চেতনাকে আঘাত করা—এসবই একটি বৃহৎ পরিকল্পনার অংশ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তথাকথিত mob culture, যা আইনের শাসনকে উপহাসে পরিণত করেছে।

সবচেয়ে লজ্জার বিষয় হলো—এই অপশক্তির বিরুদ্ধে অনেক সময় দৃশ্যমান প্রতিরোধ দেখা যায়নি। এতে তাদের সাহস আরও বেড়ে যায়। তারা মনে করে, এই দেশকে আবারও অন্ধকারে ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব। কিন্তু তারা ভুলে গেছে—বাংলাদেশের জন্মই হয়েছে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়ে।

এখন সময় এসেছে স্পষ্ট ও কঠোর অবস্থান নেওয়ার। স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিকে আর কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া যাবে না। ইতিহাস বিকৃতির প্রতিটি প্রচেষ্টার জবাব দিতে হবে যুক্তি, তথ্য এবং জনমতের শক্তি দিয়ে।

বিশেষ করে নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস জানানো এখন সবচেয়ে জরুরি দায়িত্ব। কারণ তারা যদি সত্য না জানে, তবে মিথ্যাই একসময় সত্য হয়ে দাঁড়াবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম এবং সমাজের প্রতিটি স্তরে এ বিষয়ে সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে।

বাংলাদেশ কোনো আপসের ফল নয়—এটি রক্ত দিয়ে অর্জিত একটি স্বাধীন রাষ্ট্র। সেই স্বাধীনতার চেতনাকে যারা আঘাত করে, তারা শুধু ইতিহাসের বিরোধী নয়, তারা এই দেশেরই বিরোধী।

শেষ কথা একটাই—মুক্তিযুদ্ধের চেতনা অটুট থাকবে, স্বাধীনতাবিরোধী সব অপশক্তি পরাজিত হবেই। কারণ ইতিহাস কখনো বিশ্বাসঘাতকদের ক্ষমা করে না।

কে এম মোবারক উল্ল্যাহ শিমুল
বিশিষ্ট ব্যবসায়ী
সাবেক সাধারণ সম্পাদক
লক্ষ্মীপুর জেলা যুবদল, ছাত্রদল


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: