বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ০২:৪২ পূর্বাহ্ন
শেখ ফরিদ আহমেদ, গোপালগঞ্জ : “ফলুক ফসল নিজ হাতে, চলুক জীবন সমৃদ্ধির পথে” স্লোগানকে সামনে রেখে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এর উদ্যোগে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার হরিদাসপুর ও গোপীনাথপুর এলাকায় হাইব্রিড ও উফশী জাতের তিন ধরনের ধানের নমুনা শস্য কর্তন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার সকালে প্রথমে সদর উপজেলার হরিদাসপুর ইউনিয়নের রাকিব সড়ক এলাকায় হাইব্রিড জাতের স্বপ্নগোল্ড ধানের নমুনা শস্য কর্তন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ ড. মামুনুর রহমান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) সঞ্জয় কুমার কুন্ডু, সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাফরোজা আক্তার, উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা উজ্জ্বল বিশ্বাস, এসএপিপিও লিয়াকত হোসেন, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা তাপস মিত্র ও রনজিৎ বিশ্বাসসহ স্থানীয় কৃষকরা।
নমুনা শস্য কর্তনকালে সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাফরোজা আক্তার বলেন, স্বপ্নগোল্ড একটি উচ্চ ফলনশীল হাইব্রিড ধান। ঝড়-বৃষ্টিতে এ জাতের ধান সহজে হেলে পড়ে না এবং প্রতি বিঘায় ৪৫ থেকে ৫০ মণ পর্যন্ত ফলন পাওয়া সম্ভব। ধানটি খেতেও সুস্বাদু এবং বাজারমূল্যও ভালো।
কৃষক বদিউজ্জামাল টুকু জানান, এ বছর প্রথমবারের মতো তিনি তিন বিঘা জমিতে স্বপ্নগোল্ড ধানের আবাদ করেছেন। ফলন ভালো হওয়ায় আগামী বছরও এই জাতের ধান চাষ করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।
এ সময় উপপরিচালক ড. মামুনুর রহমান বলেন, কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়মিত পরামর্শ ও সহায়তায় কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। ফলে আগামীতে এ জাতের ধানের আবাদ আরও বৃদ্ধি পাবে।
পরে গোপীনাথপুর ইউনিয়নের উত্তরপাড়া এলাকায় উচ্চ ফলনশীল উফশী জাতের ব্রীধান-১০৮ এর নমুনা শস্য কর্তন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাফরোজা আক্তার।
এসময় এসএপিপিও লিয়াকত হোসেন, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা লিটন বালা ও ভাস্কর বাড়ৈসহ স্থানীয় কৃষকরা উপস্থিত ছিলেন।
কৃষি কর্মকর্তা মাফরোজা আক্তার বলেন, ব্রীধান-১০৮ জিংক সমৃদ্ধ ও ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধী একটি উন্নত জাতের ধান। এ জাতের চাল সুস্বাদু, সহজপাচ্য এবং স্বাস্থ্যসম্মত। এছাড়া ঝড়-বাতাসে ধানগাছ সহজে নুয়ে পড়ে না এবং পোকামাকড়ের আক্রমণও তুলনামূলক কম হয়।
কৃষক উজ্জল মিয়া জানান, তিনি এ বছর ৩৩ শতাংশ জমিতে ব্রীধান-১০৮ এর আবাদ করেছেন এবং উপজেলা কৃষি অফিস থেকে বীজ, সার ও কীটনাশকসহ সার্বিক সহযোগিতা পেয়েছেন। আগামী বছর আরও বেশি জমিতে এ ধান চাষ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।
এছাড়াও গোপীনাথপুর চরপাড়া এলাকায় কৃষক মাসুদ শরীফের জমিতে কম্বাইন্ড হারভেস্টার দিয়ে উচ্চ ফলনশীল ব্রীধান-৮৯ জাতের ধানের নমুনা শস্য কর্তন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় কৃষি কর্মকর্তা মাফরোজা আক্তার বলেন, ব্রীধান-৮৯ এর জীবনকাল ১৫৪ থেকে ১৫৮ দিন এবং প্রতি বিঘায় ৫৫ থেকে ৬০ মণ পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। চিকন ও সুস্বাদু চালের জন্য এ জাতের ধান কৃষকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।