শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১১:৪৯ অপরাহ্ন
রাজধানী তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় খামেনির মরদেহ রাখা হয়েছে, যেখানে বিদেশি অতিথি, বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি ও শীর্ষ ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন।
রাজধানী তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় খামেনির মরদেহ রাখা হয়েছে, যেখানে বিদেশি অতিথি, বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি ও শীর্ষ ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন।
ইরানে ইসলামি বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফন প্রক্রিয়ার প্রথম পর্বের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। রাজধানী তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় তাঁর মরদেহ রাখা হয়েছে, যেখানে বিদেশি অতিথি, বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি ও শীর্ষ ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন। এ সময় পাঁচটি কফিন প্রদর্শন করা হয়। পরে খামেনি ও তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্যের মরদেহ ইমাম খোমেইনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় আনা হলে সাধারণ মানুষের ঢল নামে, শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ভিড় করেন অনেকে। চার মাসেরও বেশি সময় পর ৯ জুলাই তাঁর দাফনের প্রস্তুতি নিয়েছে তেহরান। দীর্ঘ এ সময় মরদেহ কীভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে, তা নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠছে।
খামেনি নিহত হওয়ার চার মাসেরও বেশি সময় পর দেশটিতে তার জন্য কয়েক দিনের রাষ্ট্রীয় শোকপালন ও শেষ বিদায়ের শোভাযাত্রা শুরু হয়েছে। শুক্রবার (৩ জুলাই) থেকে তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় সাবেক এই আয়াতুল্লাহর মরদেহ সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হচ্ছে। শনিবার (৪ জুলাই) সকাল স্থানীয় সময় ভোর ৬টায় তেহরানের ইমাম খোমেনি মুসাল্লায় মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে, যেখানে দর্শনার্থীরা রোববার বিকেল পর্যন্ত শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারবেন। আগামী (৯ জুলাই) বৃহস্পতিবার তার নিজ শহর মাশহাদে তাকে দাফন করা হবে।
ইরানি কর্তৃপক্ষ ধারণা করছে, এই আয়োজনে এক কোটি ২০ লাখ থেকে দুই কোটি মানুষের উপস্থিতি হতে পারে। ইরানে কোনো রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের জন্য এর আগে কখনও এত বড় পরিসরে প্রস্তুতি নেওয়া হয়নি।
শুক্রবার প্রথম দিনেই মরহুম নেতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত হয়েছেন ইন্দোনেশিয়া ও আফগানিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের ধর্মীয় পণ্ডিত এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা। পাশাপাশি ইরানের স্বীকৃত ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরাও এই শোকযাত্রায় শামিল হয়েছেন। এছাড়া রাশিয়া, চীন, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, ভারত, জর্জিয়া ও কিউবাসহ বিশ্বের ৩০টিরও বেশি দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিদল ইতিমধ্যে তেহরানে এসে পৌঁছেছেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সন্ধ্যায় আয়াতুল্লাহ খামেনির কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সাম্প্রতিক যুদ্ধে শহীদ হওয়া পরিবারের সদস্যদের নিয়ে একটি ব্যক্তিগত বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল।
ঐতিহাসিক ও শোকাবহ মুহূর্তে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় দলমত, জাতি ও ধর্ম নির্বিশেষে দেশের সর্বস্তরের মানুষকে এই জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
ঘোষিত সময়সূচী অনুযায়ী, শনিবার (৪ জুলাই) ও রবিবার (৫ জুলাই) মোসাল্লায় সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সোমবার (৬ জুলাই) তেহরানে মূল জানাজা ও বিশাল শোকমিছিল অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মরদেহ পবিত্র শহর কোমে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখান থেকে ইরাকের বাগদাদ, কারবালা ও নাজাফে বিশেষ ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগামী ৯ জুলাই ইরানের মাশহাদ শহরে এই মহান নেতার দাফন সম্পন্ন হবে।
প্রদর্শিত হয়েছে ৫ কফিন:
তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় পাঁচটি কফিন প্রদর্শন করা হয়েছে। নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যের মরদেহ ইমাম খামেইনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় আনার পর সেখানে সাধারণ মানুষ ঢল নামিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে ভিড় করেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, এই কফিনগুলোর মধ্যে রয়েছে আলি খামেনির জামাতা মেসবাহ-উল-হুদা বাঘেরি, বড় মেয়ে সাইয়্যেদেহ বোশরা হোসেইনি খামেনি, পুত্রবধূ জাহরা হাদ্দাদ আদেল এবং মাত্র চৌদ্দ মাস বয়সী নাতনি জাহরা মোহাম্মাদি গোলপায়গানির মরদেহ।
রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, শিশু জাহরা মোহাম্মাদি গোলপায়গানির একটি ছবি একটি ছোট শিশুর কফিনের সামনে প্রদর্শন করা হয়। সব কফিনেই ইরানের জাতীয় পতাকা আঁকা ছিল।
৪ মাস যেভাবে সংরক্ষণ করা হলো খামেনির মরদেহ:
খামেনির মৃত্যুর চার মাসেরও বেশি সময় পর ৯ জুলাই তার দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছে তেহরান। দীর্ঘ এ সময় খামেনির মরদেহ কীভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
জর্জ ওয়াশিংটন প্রোগ্রামের চরমপন্থা বিষয়ক ও সন্ত্রাসবাদবিরোধী বিশেষজ্ঞ ড. মোহাম্মদ ওমর ফক্স নিউজ ডিজিটালকে বলেন, মরদেহ রাসায়নিকভাবে সংরক্ষণ নয়, বরং শীতলীকরণ ব্যবস্থায় রাখা হয়েছে বলেই প্রায় নিশ্চিত। ইসলামে রাসায়নিক পদ্ধতিতে সংরক্ষণ নিষিদ্ধ। ভিন্ন পরিস্থিতিতে শিয়া আইনে দাফন বিলম্বিত করা ও শীতলীকরণের মাধ্যমে মরদেহ সংরক্ষণের অনুমতি রয়েছে।
তার মতে, অক্ষত মরদেহ থাকলে বিদায় অনুষ্ঠান বাতিল, দাফনের স্থান বারবার পরিবর্তন বা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দাফনের সময় নিশ্চিত না করার প্রয়োজন পড়ত না। এটি মরদেহ সংরক্ষণ করা সম্ভব হলেও তা প্রদর্শনের উপযোগী না থাকার বড় ইঙ্গিত দেয়।
খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে ব্যাপক জনসমাগমের আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।
কর্মকর্তাদের ধারণা, শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে এক কোটি ৫০ লাখ থেকে দুই কোটি মানুষের সমাগম হতে পারে।
এদিকে, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষ বিদায় অনুষ্ঠানকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে যে কোনো ধরনের হামলা থেকে বিরত থাকার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।
উল্লেখ্য, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র অংশ হিসেবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে নিজ বাসভবনে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হন খামেনি। তিনি দীর্ঘ ৩৬ বছর ধরে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
সূত্র: ফক্স নিউজ, রয়টার্স,