শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ০১:০৩ অপরাহ্ন

শিরোনাম
সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোটে যুক্ত হলো বাংলাদেশ প্রশাসককে সঙ্গে নিয়ে রাতে রাজধানী পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী ইউরেনাসের চাঁদ এরিয়েলে ছিল ১৬০ কিলোমিটার গভীর মহাসাগর: গবেষণা সাতক্ষীরায় মাছরাঙা টেলিভিশনের ১৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ ফুটবল ২০২৬ উপলক্ষে মুন্সীগঞ্জে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত ধনবাড়ী-বাজিতপুর সড়ক গিলে খাচ্ছে পুকুরে,জন-দুভোর্গ চরমে! নড়াইলের লোহাগড়া এম কে মিতালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ও অভিভাবক সমাবেশ জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়াকে ফেনীতে সংবর্ধনা কুয়েতে চীনা প্রতিষ্ঠানের ভবনে ইরানের হামলা, নিহত ১ ‘শেখ হাসিনাকে কপি করবেন না’, বিএনপিকে নাহিদ ইসলামের আহ্বান

ইউরেনাসের চাঁদ এরিয়েলে ছিল ১৬০ কিলোমিটার গভীর মহাসাগর: গবেষণা

ইউরেনাসের অন্যতম চাঁদ এরিয়েলের অভ্যন্তরে একসময় বিশাল ও গভীর একটি মহাসাগর ছিল বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে, অতীতে এরিয়েলের কক্ষপথ অনেক বেশি প্রসারিত ছিল। এর ফলে চাঁদটির অভ্যন্তরে তীব্র জোয়ার–ভাটার চাপ সৃষ্টি হয়, যা পৃষ্ঠে দীর্ঘ ফাটল এবং ভূতাত্ত্বিক পরিবর্তনের কারণ হতে পারে।

গবেষকরা ভয়েজার–২ মহাকাশযানের তোলা এরিয়েলের ছবির বিশ্লেষণে পুরোনো ক্রেটারের মধ্যকার উপত্যকায় লম্বা ফাটলের সন্ধান পান। পরে কম্পিউটার মডেলিংয়ে দেখা যায়, একসময় এরিয়েলের কক্ষপথের উৎকেন্দ্রিকতা ছিল প্রায় ০.০৪। সেই সময় চাঁদটির অভ্যন্তরে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার (১০০ মাইল) গভীর পানির স্তর ছিল, যা বরফে ফাটল সৃষ্টি এবং পৃষ্ঠের কিছু অংশকে নতুনভাবে গঠনের জন্য যথেষ্ট চাপ তৈরি করেছিল।

বিজ্ঞানীদের মতে, এরিয়েলের বিস্তৃত মসৃণ সমতলভূমি সম্ভবত ক্রায়োভলকানিজম বা বরফ আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপের মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় পানি, কাদামিশ্রিত বরফ এবং অন্যান্য উদ্বায়ী পদার্থ অগ্ন্যুৎপাতের মতো নির্গত হয়ে নিচু এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এটি চাঁদটির দীর্ঘ ও জটিল ভূতাত্ত্বিক ইতিহাসের ইঙ্গিত বহন করে।

গবেষণায় আরও জানা গেছে, এরিয়েলের কক্ষপথ পুরোপুরি গোলাকার ছিল না; বরং সামান্য ডিম্বাকৃতির ছিল। ফলে ইউরেনাসকে প্রতিবার প্রদক্ষিণের সময় চাঁদটির অভ্যন্তরে জোয়ার–ভাটাজনিত চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেত এবং সেখান থেকে উৎপন্ন তাপ অভ্যন্তরীণ মহাসাগরকে দীর্ঘ সময় তরল অবস্থায় রাখতে সহায়তা করেছিল।

এরিয়েলের পৃষ্ঠে প্রাচীন ও তুলনামূলক নবীন—উভয় ধরনের ভূখণ্ড দেখা যায়। তাই ঠিক কখন এই মহাসাগরটি ছিল, তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব হয়নি। তবে বিজ্ঞানীদের ধারণা, পৃষ্ঠের সাম্প্রতিক পরিবর্তনগুলো গত ১০০ থেকে ২০০ কোটি বছরের মধ্যে ঘটেছে।

গবেষকরা এরিয়েলের পৃষ্ঠে অ্যামোনিয়া যৌগের উপস্থিতিও শনাক্ত করেছেন। যেহেতু অ্যামোনিয়া দ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত হয়, তাই এটি তুলনামূলক সাম্প্রতিক ভূতাত্ত্বিক কার্যকলাপের ইঙ্গিত দেয়। একই সঙ্গে অ্যামোনিয়া পানির হিমাঙ্ক কমিয়ে অভ্যন্তরীণ মহাসাগরকে দীর্ঘ সময় তরল রাখতে ভূমিকা রেখেছিল বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

জনস হপকিনস ইউনিভার্সিটি অ্যাপ্লায়েড ফিজিকস ল্যাবরেটরির বিজ্ঞানী টম নর্ডহেইম বলেন, “আমরা প্রমাণ পাচ্ছি যে ইউরেনাস সিস্টেমে অন্তত দুটি অভ্যন্তরীণ মহাসাগর ছিল।” আর প্ল্যানেটারি সায়েন্স ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানী অ্যালেক্স প্যাথফ বলেন, “এরিয়েলের পৃষ্ঠে দেখা ফাটলগুলোর সৃষ্টি ব্যাখ্যা করতে একটি অভ্যন্তরীণ মহাসাগরের উপস্থিতি প্রয়োজন।”

সূত্র: আর্থ ডটকম


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: