মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৩ অপরাহ্ন

নাগরিক সম্মিলনে দারিদ্র্য ও বৈষম্য নিরসনে সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা ও পর্যাপ্ত অর্থায়নের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক : দারিদ্র্য ও বৈষম্যমুক্ত বিশ্ব গড়তে স্থায়িত্বশীল উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) ২০৩০ সালের মধ্যে অর্জনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ, পর্যাপ্ত অর্থায়ন এবং পিছিয়ে পড়া ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে উন্নয়ন পরিকল্পনার মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

‘গ্লোবাল অ্যাকশন উইক’ উপলক্ষে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জেলার এনআরডিএস সেন্টারে জিক্যাপ, এসডিজি অ্যাকশন অ্যালায়েন্স বাংলাদেশ ও এনআরডিএস-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক নাগরিক সম্মিলনে এ দাবি জানানো হয়।

সম্মিলনে বক্তারা বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি অর্জনের লক্ষ্যে বিশ্ব এগোলেও প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি। ১১ বছর পেরিয়ে এসডিজির মাত্র ১৯ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা সঠিক পথে রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে অবশিষ্ট সময়ের মধ্যে এসডিজি বাস্তবায়নে পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি বাস্তবায়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

বক্তারা বলেন, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক সুরক্ষা, বৈষম্য হ্রাস এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সারাদেশে নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। প্রত্যন্ত ও প্রান্তিক অঞ্চলে এসব সংকট আরও প্রকট। তাই উন্নয়ন পরিকল্পনায় এসব জনগোষ্ঠীর বাস্তব প্রয়োজন ও মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে।

সম্মিলনে মানসম্মত ও একীভূত শিক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, নারীর নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়ন, নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় স্থানীয় পর্যায়ে কার্যকর ও টেকসই পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।

আলোচকরা বলেন, এসডিজি বাস্তবায়নে আগামী চার বছর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ে অর্থনৈতিক সুবিচার প্রতিষ্ঠা এবং হতদরিদ্র, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি, আদিবাসী ও অন্যান্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। কোন লক্ষ্য কতটা অর্জিত হয়েছে এবং কোথায় ঘাটতি রয়েছে, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনা করে অগ্রাধিকারভিত্তিতে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণেরও আহ্বান জানান তারা।

এনআরডিএস-এর নির্বাহী পরিচালক আবদুল আউয়ালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নাগরিক সম্মিলনে প্যানেলিস্ট হিসেবে বক্তব্য দেন উন্নয়নকর্মী ফাহিদা আক্তার, সমাজকর্মী নূরের নাহার, অ্যাডভোকেট মিজান তালুকদার ও সমাজকর্মী সুমাইয়া আক্তার।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন প্রান্তিক নারী নেত্রী শারমিন আক্তার, মুন্নী আক্তার, খোদেজা বেগম, নাছিমা আক্তার, মাছুমা বেগম, পার্বতী বৈরাগী, শিক্ষার্থী মোহাম্মদ জিহান উদ্দিন, শাহ্‌মাখদুম রুফস, সহকারী শিক্ষক মোশারফ হোসেন, গণমাধ্যমকর্মী জামাল হোসেন বিষাদ, আবু নাছের মঞ্জুসহ নাগরিক সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা।

সম্মিলনে বক্তারা বলেন, এসডিজি অর্জন শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়; এ লক্ষ্যে সরকার, নাগরিক সমাজ, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা, গণমাধ্যম ও জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে জবাবদিহিমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ওপরও তারা গুরুত্বারোপ করেন।


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: