বুধবার, ১৭ Jun ২০২৬, ১১:৫৯ অপরাহ্ন

শিরোনাম
মিল্কভিটা চেয়ারম্যান শাতিল ও তার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অর্থ লোপাটের অভিযোগ সুবর্ণচরে ৬১৫ পরিবারের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠান সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে ‘সাতক্ষীরা কমিউনিটি গ্রুপ’র পোস্টার ও লিফলেট ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত গোপালগঞ্জে কোটালীপাড়ায় ১৬৪ পিস নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল জব্দ, পুড়িয়ে ধ্বংস প্রবাসীদের জরুরি নির্দেশনা দিলো কাতার, না মানলে শাস্তি শনিবার খুলনা বিভাগীয় সমাবেশ করবে ১১ দলীয় ঐক্যজোট প্রবাসীদের পাসপোর্ট ফি কমানোর প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে সরকার: সংসদে এক ম্যাচে যত রেকর্ড গড়লেন মেসি কালিয়াকৈরে বৃষ্টির পানিতে প্লাবিত ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক, যানবাহন চলাচলে ধীরগতি গোপালগঞ্জে ওভারটেক করতে গিয়ে ত্রিমুখী সংঘর্ষ: প্রাণ হারালেন ১, আহত ৩০

মিল্কভিটা চেয়ারম্যান শাতিল ও তার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অর্থ লোপাটের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের অন্যতম বৃহৎ সমবায়ভিত্তিক দুগ্ধ প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় ইউনিয়ন লিমিটেড (মিল্কভিটা)-এর অন্তর্বর্তীকালীন চেয়ারম্যান এস. এম. আমির হামজা শাতিল ও ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) জাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সমবায়ী সদস্য ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।

এ অভিযোগে গত ১০ জুন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), সমবায় অধিদপ্তরসহ সরকারের ১১টি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, মিল্কভিটার শীর্ষ প্রশাসনে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে, যারা দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে অনিয়ম চালিয়ে আসছে। গত ৩ জুন সমবায় অধিদপ্তরের নিবন্ধক ও মহাপরিচালকের কাছে চার পৃষ্ঠার একটি অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। পরে একই অভিযোগ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি সংস্থায় পাঠানো হয়।

অভিযোগে বলা হয়, চেয়ারম্যান এস. এম. আমির হামজা শাতিল সমবায় আইন ও মিল্কভিটার গঠনতন্ত্র উপেক্ষা করে ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন। এক বছরের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত হলেও মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তিনি পদে বহাল রয়েছেন। প্রতিষ্ঠানকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে বিশেষ সাধারণ সভা (ইজিএম) ডেকে সম্মানী ভাতা ১০ গুণ বৃদ্ধিসহ বিতর্কিত কয়েকটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

এছাড়া শ্রমিক ছাঁটাই করে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল নিয়োগ, চাকরি বিধিমালা সংশোধন করে এককভাবে নিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি এবং প্রশাসনিক কাঠামোর বাইরে নতুন পদ সৃষ্টি করে আর্থিক অনিয়মের পথ সুগম করার অভিযোগও আনা হয়েছে।

ভারপ্রাপ্ত এমডি জাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি অনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং তার নেতৃত্বে নিম্নমানের ও ভেজাল দুধ সংগ্রহ, টেন্ডার বাণিজ্য এবং কমিশন আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, কমিশন না দিলে ঠিকাদারদের বিল আটকে রাখা হয়। এছাড়া পদোন্নতি ও বেতন বৃদ্ধির নামে কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগও উঠেছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, চেয়ারম্যান ও ভারপ্রাপ্ত এমডির সহযোগী হিসেবে প্রশাসনের ১১ সদস্যের একটি সিন্ডিকেট বিভিন্ন অনিয়মে জড়িত। বদলি বাণিজ্য, নিয়োগে অনিয়ম, টেন্ডার কারসাজি এবং ভেজাল দুধ সংগ্রহে তাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ আনা হয়েছে।

এদিকে, অবৈধ নির্দেশনা মানতে অস্বীকৃতি জানানোয় নির্বাচিত শ্রমিক নেতা ও সাধারণ কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ, বদলি এবং চাকরিচ্যুতির হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ শ্রমিক-কর্মচারীরা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন। কয়েকজন শ্রমিক নেতা বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ১৮৭ ধারা অনুযায়ী শ্রম আদালতে মামলাও দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে।

অভিযোগকারীরা সরকারের কাছে চার দফা দাবি জানিয়েছেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন, চেয়ারম্যানের বিতর্কিত কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাময়িক প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

আবেদনপত্রে মিল্কভিটার সাধারণ সদস্য, দুগ্ধ খামারি, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্টেকহোল্ডারদের পক্ষে মফিজ সিকদার, নজরুল হাওলাদার, করিম মাতাব্বর ও নারায়ণ ঘোষসহ একাধিক ব্যক্তি স্বাক্ষর করেছেন।

তবে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও অন্তর্বর্তীকালীন চেয়ারম্যান এস. এম. আমির হামজা শাতিল এবং ভারপ্রাপ্ত এমডি জাহিদুল ইসলামের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: