শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:২১ পূর্বাহ্ন
আগৈলঝাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি :: বরিশালের আগৈলঝাড়ায় শুক্রবার সকালে ১৫৫৪ পিচ থ্রি নট থ্রি রাইফেলের গুলি উদ্ধার হয়েছে। সকাল সাড়ে এগারোটার দিকে বিপুল পরিমান গুলি উদ্ধারের খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবুল হাশেম, ওসি মাজহারুল ইসলাম, গৈলা ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল হোসেন টিটুসহ অন্যান্যরা ঘটনাস্থালে উপস্থিত হন। উদ্ধারকৃত ১৫৫৪ পিচ গুলি থানা হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। কৌতুহলে শিশুরা গুলি উদ্ধার করছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবুল হাশেম জানান- সরকারীভাবে ভূমিহীনদের বাড়ি নির্মাণের জন্য ২২ ফেব্রুয়ারি গৈলা ইউনিয়নের কালুপাড়া মৌজায় ৩০ শতক জায়গা ক্রয় করে সরকার। ওই জায়গায় ১৫টি পাকা বাড়ি নির্মাণের জন্য ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে কাজ শুরু করে শ্রমিকেরা। শুক্রবার সকালে বাড়ির কাজের জন্য লে-আউট দিতে মাটি খনন করতে গিয়ে মাত্র এক-দেড় ফুট নীচে শ্রমিকেরা ওই গুলি দেখতে পেয়ে তা উদ্ধার করে। স্থানীয়দের বরাত দিয়ে তিনি আরও জানান, ’৭১ মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে গৈলা ইউনিয়নের কালুপাড়া গ্রামের ওই স্থানে রাজাকার ক্যাম্প ছিল।
ধারনা করা হচ্ছে দেশ স্বাধীনের পরবর্তি সময়ে রাজাকাররা এসব গুলি মাটির নীচে লুকিয়ে রাখে। যা মাটি খননের সময় পরিত্যাক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হয়েছে। বাড়ি নির্মাণের কাজ অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি। গুলি উদ্ধারের খবর পেয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি (তদন্ত) মো. মাজহারুল ইসলাম, এসআই মিজানুর রহমান, এসআই মিল্টন মন্ডলসহ সঙ্গীয় ফোর্সরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের উদ্ধার করা বন্দুকের গুলি তাদের হেফাজতে নেয় এবং জব্দ তালিকা তৈরী করেন।
ওসি মাজহারুল ইসলাম জানান- পরিত্যাক্ত ও নিস্কৃয় অবস্থায় উদ্ধারকরা ১৫৫৪ পিচ গুলি তাদের হেফাজতে নিয়েছেন। এই গুলিগুলো শক্তিশালি থ্রি নট থ্রি রাইফেল ও এলএমজি’তে ব্যবহার করা করা হয়। গুলিগুলো ৫টি করে প্রসেস অবস্থায় পাওয়া গেছে। তবে এগুলো অর্ধশত বছর আগে থেকে মাটির নীচে থাকায় মরিচা ধরে নিস্কৃয হয়ে গেছে। বিষয়টি জেলা পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে। তাদের নির্দশনা অনুযায়ি পরবর্তি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
স্থানীয়রা জানান, হিন্দু মালিকানাধীন ওই বাড়িটিতে স্থাপন করা হয় পিচ কমিটির ক্যাম্প। দেশ স্বাধীনের পরে স্থানীয় কিসমত সরদার দখল করে নেয়। পরে কিসমত সরদারের ছেলে পলাশ তাদের দখল করা বাড়িটি বিক্রি করে দেয়। সেখান থেকে হাত বদল হয়ে সোহরাব ও শাহ আলম নামের দুই ভাই এই জমির মালিকানা নিয়ে পায়। বর্তমানে এর একটি অংশ সরকার ক্রয় করে।
এদিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে খনন করা জায়গার মাটি থেকে কৌতুহলের কারণে গুলি উদ্ধার করতে দেখা গেছে স্থানীয় শিশুদের। সেখানে ছিল না কোন বিধি নিষেধ। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে স্বাধীনতা বিরোধীরা দেশের মানুষের উপর নির্বিচারে যে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে তার নিদর্শন হিসেবে এই নিস্কৃয় গেলাবারুদ সরকারীভাবে জাদুুঘরে সংরক্ষণের মাধ্যমে পরবর্তি প্রজন্মের কাছে স্বাধীনতার ইতিহাস তুলে ধরার দাবি জানিয়েছেন গৈলা ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল হোসেন টিটু।