মঙ্গলবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২২, ০৩:৪০ পূর্বাহ্ন

এক জীবনে সব পেয়েছি আর বেশি কিছু চাই না

টিভি নাটকের পরিচিত মুখ রুনা খান। অনবদ্য অভিনয় দিয়ে আলো কেড়েছেন বড়পর্দায়ও। দীপ্ত টিভিতে প্রতিদিন রাত সাড়ে ৮টায় প্রচার করা হচ্ছে তার অভিনীত ধারাবাহিক নাটক ‘মাশরাফি জুনিয়র’। এ নাটক ও অন্যান্য প্রসঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন- জাহিদ ভূঁইয়া

‘মাশরাফি জুনিয়র’ নাটকটি নিয়ে দর্শকের সাড়া কেমন পাচ্ছেন?

দীর্ঘ ধারাবাহিকের গল্প ও চরিত্রে নতুনত্ব না থাকলে দর্শক ধরে রাখা কঠিন। সেদিক থেকে বলতে গেলে গল্পই এ নাটকের প্রাণ। আর গল্প ভালো হলে শিল্পীরা যে নিজের সেরাটা তুলে ধরতে পারেন, তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ‘মাশরাফি জুনিয়র’। দর্শক সাড়া না পেলে পাঁচশর বেশি পর্ব বৃদ্ধি করা হতো বলে মনে হয় না। এখন পর্যন্ত যারাই নাটকটি দেখেছেন, তারাই ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

সব বাধা ডিঙিয়ে এক অসম্ভব স্বপ্নছোঁয়ার গল্পের নাটক এটি। নির্মাতা সাজ্জাদ সুমনের এই কথার সঙ্গে আপনি কি একমত?

এখানে দ্বিমতের কিছু নেই। কারণ ‘মাশরাফি জুনিয়র’ নাটকে সব বাধা ডিঙিয়ে সাফল্য ছিনিয়ে আনার গল্পই তুলে ধরা হয়েছে। মন্ডা ও মনি নামে যে দুই কিশোর ভাইবোনকে আমরা নাটকে দেখছি তাদের একজন বড় ক্রিকেটার হতে চায়, অন্যজন সেই স্বপ্নকে সফল করার সাহস জোগায়। কিন্তু আমাদের সমাজ-সংসারে কোনো চাওয়া সহজে পূরণ হয় না। এ জন্য ডিঙাতে হয় অসংখ্য বাধার দেয়াল। পরাজয় না মেনে কীভাবে মন্ডা ও মনি বাধার দেয়াল পেরোতে চাচ্ছে, সেটিই দর্শক নাটকে দেখছেন।

সিনেমায় গতানুগতিক ধারার বাইরের গল্পেই কাজ করতে দেখা যায় আপনাকে। এ নিয়ে আলাদা পরিকল্পনা থাকে?

অনেক বাছবিচার করে সিনেমায় অভিনয় করি, তা নয়। আমার অভিনীত সিনেমাগুলো যদি দর্শকের ভিন্ন ধাঁচের মনে হয়, তা হলে সেই কৃতিত্ব নির্মাতার। ‘হালদা’, ‘গহীন বালুচর’, ‘কালো মেঘের ভেলা’, ‘ছিটকিনি’, ‘সাপলুডু’সহ যেসব ছবিতে অভিনয় করেছি সেসব ছবির চরিত্রের জন্য নির্মাতারাই আমাকে নির্বাচন করেছেন। এদিক থেকে আমি ভাগ্যবান যে, ভালো কিছু নির্মাতার ভিন্ন ধরনের গল্পে অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছি।

‘একটি না বলা কথা’ সিনেমাটি কবে মুক্তি পাবে?

শুটিং, ডাবিং শেষ করেছি। সেই হিসেবে সিনেমা মুক্তিতে খুব একটা দেরি হওয়ার কথা নয়। তবে ‘একটি না বলা কথা’ মুক্তির চূড়ান্ত দিন-ক্ষণ নির্মাতা পঙ্কজ পালিত ভালো বলতে পারবেন।

জীবন নিয়ে আপনার উপলব্ধি কী?

একজন কন্যা, মা, মেয়ে, স্ত্রী হিসেবে আমি ধন্য। আমার মা-বাবা মনে করেন আমি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সন্তান, মেয়ের কাছে আমি শ্রেষ্ঠ মা। স্বামী মনে করেন, অসাধারণ স্ত্রী। এর পাশাপাশি কর্মজীবনের জন্যও অনেক ব্যক্তি আমাকে ভালোবাসেন। নিজের মতো জীবনটা চালিয়ে নিচ্ছি। এক জীবনে সুখে থাকার জন্য আর কী লাগে, বলেন?

সহশিল্পীরা তো রুনা খানকে ভীষণ রকমের ভালোবাসেন…

জীবনটা ভীষণ ছোট। এই সময়ে আমি একজন মানুষকেও আহত করতে চাই না, মন খারাপ করে দিতে চাই না। আমার কাছের সব মানুষকে ভালোবাসতে, তাদের সঙ্গে সময় কাটাতে ভালো লাগে। এটি আমার মায়ের কাছ থেকে শেখা। এ জন্য সহশিল্পীদের কাছ থেকে অন্য রকম ভালোবাসা পাই।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে কোনো আফসোস আছে?

আমার কোনো আফসোস নেই। যতটুকু পেয়েছি, তাতেই খুশি। আমি কেন প্রথম সারিতে নই, আমাকে এটি করতে হবে, সেটি করতে হবে এসব নিয়ে কখনো ভাবি না। শুরুটা কোথা থেকে করেছি, সেটি মনে করি। এক জীবনে সব পেয়েছি, আর বেশি কিছু চাই না।

নিউজটি শেয়ার করুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগীতায় :বাংলা থিমস| ক্রিয়েটিভ জোন আইটি