মঙ্গলবার, ১৬ Jun ২০২৬, ১০:৪৭ পূর্বাহ্ন
শিশুদের অধিকার, সুরক্ষা, বিকাশ ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার অঙ্গীকারের জন্য মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে পৃথকীকরণ করে শিশুদের জন্য পৃথক ‘শিশু মন্ত্রণালয় গঠন’ করার দাবি জানিয়েছেন শিশু অধিকার ভিত্তিক সংগঠন ওয়ার্ল্ড চিল্ড্রেন অর্গানাইজেশন কচি কণ্ঠের আসর। রোববার (৫ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছে সংগঠনটি।
এতে বলা হয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রতিবছর গুরুত্বের সঙ্গে বিশ্ব শিশু অধিকার দিবস পালন করা হয়ে থাকে। প্রতি বছরের ন্যায় সংগঠনটি এই দিবস উপলক্ষে চলতি বছরেও বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করছে। তারই অংশ হিসেবে গতকাল শনিবার (৪ অক্টোবর) সংগঠনের চেয়ারম্যান জনাব হেমায়েত হোসেনের সভাপতিত্বে এবং মহাসচিব জনাব রুবাইয়াদ তানভীর ফেরদৌস সঞ্চালনায় এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন সংগঠনের ভাইস চেয়ারম্যান জনাব মো. মাহফুজুর রহমান সরকার যুগ্ম সচিব জনাব নূর মোহাম্মদ আব্দুল মুকিত, অর্থ সচিব জনাব মো. ছাইদুজ্জামান খন্দকার সাংগঠনিক সচিব জনাব মো. আজমল আলী খান, কার্যক্রম সচিব জনাব মো. শফিকুল ইসলাম এবং নির্বাহী সদস্যবৃন্দ জনাব বখতিয়ার আহমেদ রাজিব জনাব মো. রাহাত উল্লাহ চৌধুরী, জনাব এড. হালিমা খাতুন ও জনাব প্রফেসর মো. মিজানুর রহমান মজুমদার।
এছাড়াও কচি কন্ঠের আসরের সহযোগী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাজল আহসান, প্রমা আজিজ, সানজিদা বিনতে রশিদ, পূজা সেন, সাদিয়া সান্তা প্রমুখ।
সভায় আলোচকবৃন্দ শিশুদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সরকারের নিকট কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি উপস্থাপন করেন। দাবিগুলো হলো- শিশুদের জন্য পৃথক শিশু মন্ত্রণালয় গঠন (বর্তমান মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে পৃথকীকরণ)। শাহবাগের সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শিশু পার্ক দ্রুততম সময়ে পুনরায় চালু করা। শিশু শ্রম, শিশু পাচার ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা। শিশু অধিকার রক্ষায় জাতীয় শিশু নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা। বাংলাদেশের সকল শিশু, বিশেষ করে প্রান্তিক ও বঞ্চিত শিশুদের অবমাননাকর বিশেষণে (যেমন টোকাই, পথকলি, বাস্তুহারা, উপজাতি শিশু ইত্যাদি) না ডেকে সকলকে ‘শিশু নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান। ঢাকা শহরসহ সারাদেশে শিশুদের জন্য নিরাপদ খেলার স্থান, শিশু পার্ক ও শিশু-বান্ধব অবকাঠামো পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা।
বক্তারা বলেন, শিশুদের অধিকার নিশ্চিতকরণ শুধু একটি সামাজিক দায়িত্ব নয়, এটি জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম পূর্বশর্ত। তারা আশা প্রকাশ করেন যে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ দাবিগুলো দ্রুত বিবেচনা করবে এবং শিশুদের জন্য একটি সুরক্ষিত ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে কার্যকর উদ্যোগ নেবে।