বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:১৭ অপরাহ্ন

শিরোনাম
ফুলবাড়ীর প্রধান সড়কের পার্শ্বে পণ্য রেখে জনদুর্ভোগ সৃষ্টির অভিযোগে দুই ব্যবসায়ীকে অর্থদন্ড চৌদ্দগ্রামে নারী উদ্যোক্তা প্রমি হত্যার বিচার দাবীতে ছাত্র-জনতার মানববন্ধন ৪৭ তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ, ১০ম বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড এবং ১০ম বিজ্ঞান কুইজ প্রতিযোগিতা ২০২৬-এর শুভ উদ্বোধন আঁখিরা গণহত্যা দিবস আজ: ফুলবাড়ীতে ১৯৭১-এর বর্বর হত্যাযজ্ঞে দেড় শতাধিক প্রাণহানি মুন্সীগঞ্জে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত ফের নতুন আলোচনায় রণবীর সিং ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে হিজবুল্লাহর রকেট হামলা নিলামে আরও ৫০ মিলিয়ন ডলার কিনলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক গণভোটের রায় বাস্তবায়নে জামায়াতসহ ১১ দলের ১৫ দিনের কর্মসূচি পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে: পানিসম্পদ মন্ত্রী

আঁখিরা গণহত্যা দিবস আজ: ফুলবাড়ীতে ১৯৭১-এর বর্বর হত্যাযজ্ঞে দেড় শতাধিক প্রাণহানি

ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি :
আজ ১৭ এপ্রিল। দিনাজপুরের ফুলবাড়ীর বর্বরোচিত লোমহর্ষক আঁখিরা গণহত্যা দিবস। ৫৫ বছর আগে ১৯৭১ সালের আজকের এইদিনে ফুলবাড়ী উপজেলার ২নং আলাদিপুর ইউনিয়নের বারাইহাটের আঁখিরা নামক স্থানের পুকুর পাড়ে পাকিস্তানী খানসেনাদের হাতে প্রাণ হারান ভারতে আশ্রয় নিতে যাওয়ার পথে ফুলবাড়ী, নবাবগঞ্জ, বিরামপুর, পার্বতীপুর ও বদরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার শতাধিক বাঙালি হিন্দু পরিবারের দেড় শতাধিক নারী-পুরুষ, যুবক-যুবতিসহ শিশু-কিশোর-কিশোরী।

স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধারা জানান, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানী খানসেনাদের হাত থেকে প্রাণে বাঁচতে ফুলবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত পথে ভারতে আশ্রয় নিতে শুরু করেন। এরই অংশ হিসেবে ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল আজকের এইদিনে ফুলবাড়ী উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের রামভন্দ্রপুর গ্রামের কুখ্যাত রাজাকার কেনান সরকার পার্শ্ববর্তী নবাবগঞ্জ উপজেলার আফতাবগঞ্জ, বিরামপুর, পার্বতীপুরের শেরপুর, ভবানীপুর, বদরগঞ্জ ও খোলাহাটিসহ বিভিন্ন এলাকার শতাধিক বাঙালি হিন্দু পরিবারের দেড়শতাধিক নারী-পুরুষ, যুবক-যুবতিসহ শিশু-কিশোর-কিশোরীকে নিরাপদে ভারতে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে ফুলবাড়ীতে নিয়ে আসে। এরপর রাজাকার কেনান সরকার অস্ত্রের মুখে বাঙালি পরিবারগুলোর সঙ্গে থাকা অর্থ সম্পদসহ স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নিয়ে তুলে দেয় খানসেনাদের হাতে। ওইদিন সকাল ১১টার দিকে আঁখিরা পুকুর পাড়ে নিয়ে সবাইকে লাইনে দাঁড় করে মেশিনগানের ব্রাশ ফায়ারে হত্যাযজ্ঞ চালায় খানসেনারা। এরপরও যারা বেঁচে ছিলেন তাদেরকে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে। তবে দেশ স্বাধীনের পর প্রাণ হারায় কুখ্যাত রাজাকার কেনান সরকার।

প্রত্যক্ষদর্শী সেই সময়ের ৮ বছরের বালক বারাইহাটের মোসলেসুর রহমান জানান, লুকিয়ে থেকে খানসেনাদের হত্যাযজ্ঞ দেখার অপরাধে এলাকার ৮ জনকে ধরে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে খানসেনারা। ক্ষতবিক্ষত হয়ে বিক্ষিপ্ত অবস্থায় পড়ে থাকে নিরীহ বাঙালি নারী-পুরুষের লাশ। স্বাধীনতার পরও পুকুরপাড় এলাকায় মানুষের হাড়গোড়সহ মাথার খুলি পড়ে ছিল।

এদিকে এই লোকহর্ষক গণহত্যার ৫০ বছর পর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের “১৯৭১ মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী কর্তৃক গণহত্যার জন্য ব্যবহৃত বধ্যভূমি সমূহ সংরক্ষণ ও স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ (দ্বিতীয় পর্যায়ে) শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ২০২১ সালে ফুলবাড়ীর আঁখিরা বধ্যভূমি সংরক্ষণ ও স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে। গত ২০২৪ সাল থেকে স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধারা বধ্যভূমি স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণসহ সংক্ষিপ্ত স্মৃতিচারণমূলক আলোচনা ও দোয়া করে আসছেন।


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: