শুক্রবার, ২৬ Jun ২০২৬, ১০:০৮ অপরাহ্ন

এক মাসের মধ্যে দানের অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছ ও যৌক্তিক পদ্ধতির সুপারিশ করবে কমিটি

সিলেট প্রতিনিধি: হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। নবগঠিত এই কমিটি আগামী এক মাসের মধ্যে মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনার জন্য একটি যৌক্তিক ও স্বচ্ছ পদ্ধতির সুপারিশ করবে।

শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে সিলেট সার্কিট হাউসে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন বিষয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

সম্প্রতি মাজারে নতুন দানবাক্স স্থাপন ও পুরোনো দানের ডেগ সিলগালা করা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার পর এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে মাজারের উন্নয়ন, দানের অর্থের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা একমত হন।

বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামতের ভিত্তিতে সর্বসম্মতিক্রমে ১২ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রশাসক রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, বিভাগীয় কমিশনার মশিউর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের শামীম, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি, সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার, মাজারের মোতোয়াল্লি পরিবারের দুই সদস্য এবং মাজার মাদ্রাসা ও মসজিদের দুই প্রতিনিধি সদস্য হিসেবে রয়েছেন। জেলা প্রশাসক কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দরগাহর উন্নয়ন, দানের অর্থের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনতে সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। মাজার কর্তৃপক্ষও এ উদ্যোগে সম্মতি দিয়েছে। নবগঠিত কমিটি আগামী এক মাসের মধ্যে ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণ করে সুপারিশ দেবে।

প্রসঙ্গত, গত ১২ জুন হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার পরিদর্শনে গিয়ে তৎকালীন জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম মাজারের আয়-ব্যয়ের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার উদ্যোগের ঘোষণা দেন। এর ধারাবাহিকতায় ১৮ জুন মাজারে নতুন চারটি দানবাক্স স্থাপন এবং ঐতিহাসিক তিনটি দানের ডেগ ও একটি দানবাক্স সিলগালা করা হয়। পরে এ সিদ্ধান্ত ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে সিলগালা খুলে দানবাক্স ও ডেগে থাকা অর্থ গণনা করে মোট ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা নগদ, ৭ আনা স্বর্ণালংকার এবং ১০ সৌদি রিয়াল উদ্ধার করা হয়। এসব অর্থ মাজারের নামে ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হয়। এরপর থেকেই মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: