শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ১২:৪৭ পূর্বাহ্ন
আয়োজকদেরও প্রস্তুতির কমতি ছিল না। গান শুনতে ছুটে এসেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের সংগীতপ্রেমীরাও। কিন্তু অনুষ্ঠানের দিন হঠাৎ শাফিন আহমেদের অসুস্থতায় পরিকল্পনা পাল্টাতে হয় আয়োজকদের। সেদিন একই মঞ্চে গান গাওয়ার কথা ছিল দেশের আরেক জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী সামিনা চৌধুরীর। তিনি গান শুরুর আগে মঞ্চে থাকা এলইডি পর্দায় হাজির হন শাফিন আহমেদ। হাসপাতালের বিছানা থেকে তিনি একটি ভিডিও বার্তায় অনুষ্ঠানে না থাকতে পারার কথা জানান।
২০ জুলাই ভার্জিনিয়ার একটি স্টেজ শোতে গাওয়ার কথা ছিল শাফিন আহমেদের। এদিন অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত তাঁকে সেখানকার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর তিনি আর সুস্থ হয়ে ফেরেননি। গুরুতর হার্ট অ্যাটাক হয় তাঁর।
তার আগে আয়োজকদের একটি ভিডিও বার্তা দেন তিনি। সেখানে তিনি বলেছিলেন এই কথাগুলো, ‘আজকে কনসার্টে আপনাদের সাথে দেখা হওয়ার কথা ছিল। তবে শারীরিক কিছু লক্ষণের জন্য আমি একটু মেডিকেল চেকআপ করতে আসি। মেডিকেল চেকআপ করতে এসে হাসপাতালের চিকিৎসকদের নির্দেশ অনুযায়ী সময় লাগছে। তাই হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চেকআপ করতে হচ্ছে। আপনারাও দেখতে পাচ্ছেন, এই মুহূর্তে হাসপাতালে ভর্তি আছি। আপনাদের সাথে হয়তো আজকে আর দেখা হচ্ছে না। দুঃখিত আমার সব শ্রোতা এবং ভক্তদের কাছে, একই সঙ্গে আয়োজকদের কাছেও। আগামীতে নিশ্চয় আপনাদের সাথে দেখা হবে। আমি আশা করব আপনাদের সাথে দেখা হবে। ধন্যবাদ।
এরপর সেদিন রাতে শাফিন আহমেদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। গভীর রাতে গুরুতর হার্ট অ্যাটাক হয়। এরপর তিনি আর কারও সঙ্গে কোনো কথা বলতে পারেননি। পরিবারের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যমতে, শাফিন আহমেদকে ভেন্টিলেশন সাপোর্ট দেওয়া হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁকে আর ফেরানো যায়নি। তিনি চলে যান না–ফেরার দেশে। গতকাল বৃহস্পতিবার ছিল তাঁর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী।
শাফিন আহমেদের জন্ম ১৯৬১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি। মা কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী ফিরোজা বেগম ও বাবা সংগীতজ্ঞ কমল দাশগুপ্ত।
মৃত্যুর দুই সপ্তাহ আগে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে উড়াল দেন ব্যান্ড তারকা শাফিন আহমেদ। কত পরিকল্পনা, দেশটির এক অঙ্গরাজ্য থেকে আরেক অঙ্গরাজ্যে গানে গানে শ্রোতা মাতাবেন। শুরুটা হয়েছিলও তেমন সুন্দর। দ্বিতীয় কনসার্টের আগে যেন খেলেন ধাক্কা। যে ধাক্কা তাঁর জীবনের সব হিসেব–নিকেশ নিমেষেই পাল্টে দেয়। সামলে উঠতে পারেননি আর। বরণ করে নিতে হয় মৃত্যুকে।