মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৪৭ অপরাহ্ন
ঢাকা, মঙ্গলবার: বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে শাস্তির বিধান কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি ও বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তাজরুল হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার এক সম্পূরক আবেদনের শুনানি শেষে এ রুল দেন।
এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর মাধ্যমে আইনে নতুন ৯খ ধারা যুক্ত করা হয়। পরে ২০২৬ সালের ১০ এপ্রিল আইনটি সংশোধনের সময়ও ওই বিধান বহাল রাখা হয়। নতুন ধারায় বলা হয়েছে, দৈহিক বলপ্রয়োগ ছাড়াই বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ১৬ বছরের বেশি বয়সী কোনো নারীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করলে এবং তাদের মধ্যে আস্থাভাজন সম্পর্ক থাকলে অভিযুক্ত ব্যক্তি সর্বোচ্চ সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
এই বিধানের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এইড ফর ম্যান ফাউন্ডেশন-এর পক্ষে গত বছরের ৭ এপ্রিল রিট করা হয়। প্রাথমিক শুনানির পর গত বছরের ৪ মে হাইকোর্ট রুল জারি করেন। পরবর্তীতে সংশোধিত আইনেও একই বিধান বহাল থাকায় রিটকারী পক্ষ সম্পূরক আবেদন করলে মঙ্গলবার নতুন করে রুল দেন আদালত।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ইশরাত হাসান এবং রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ জীসান হায়দার। রুলে আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিব ও মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবকে জবাব দিতে বলা হয়েছে।
শুনানি শেষে আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দুই প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ব্যক্তিগত বিষয়। পরবর্তীতে সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করলে সেটিকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাঁর দাবি, আইনটি অস্পষ্ট, বৈষম্যমূলক এবং মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। এতে শুধু পুরুষকে শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে, অথচ প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ উভয় পক্ষের ক্ষেত্রেই হতে পারে। পাশাপাশি, ‘বিয়ের প্রতিশ্রুতি’ নির্ধারণের কোনো স্পষ্ট মানদণ্ডও আইনে উল্লেখ করা হয়নি।