রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:২৭ অপরাহ্ন
বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীমকে এডমিরাল পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। রোববার (২৩ আগস্ট) বিমান বাহিনী সদর দপ্তরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান তাকে এডমিরাল র্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী নৌবাহিনী প্রধানকে অভিনন্দন জানান। র্যাংক ব্যাজ পরিধান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফ উদ্দিনসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম গত ২৩ জুলাই নৌবাহিনী প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি ১৯৮৭ সালের ১ জানুয়ারি বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে যোগ দেন এবং রয়্যাল মালয়েশিয়ান নৌবাহিনীতে প্রশিক্ষণ শেষে ১৯৮৯ সালের ১ জুলাই এক্সিকিউটিভ ব্রাঞ্চে কমিশন লাভ করেন। তাঁর ব্যাচে তিনি জ্যেষ্ঠতা ও মেধায় প্রথম স্থান অধিকার করেন।
তিনি বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি) থেকে মেরিটাইম গভর্ন্যান্স বিষয়ে পিএইচডি অর্জন করেন। পাশাপাশি এমফিল এবং স্ট্র্যাটেজিক, ডিফেন্স ও অপারেশনাল স্টাডিজ বিষয়ে তিনটি মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তিনি ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ, আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্স এবং ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজের কৃতী গ্র্যাজুয়েট।
প্রায় চার দশকের কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড, স্টাফ ও নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করেন। এর মধ্যে কমান্ডার চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চল, কমান্ডার ঢাকা নৌ অঞ্চল, কমান্ডার সাবমেরিন, কমান্ড্যান্ট বাংলাদেশ নেভাল একাডেমি এবং নৌবাহিনী সদর দপ্তরের পরিচালক নৌ-অপারেশন্সের দায়িত্ব রয়েছে।
তিনি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বিভিন্ন যুদ্ধজাহাজের অধিনায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। বাংলাদেশ নেভাল একাডেমি, ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ ও ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজে প্রশিক্ষক হিসেবেও কাজ করেছেন।
আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে লেবানন ও গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন করেন খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম। সর্বশেষ তিনি ওমানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময়ে বাংলাদেশ-ওমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণে কাজ করেন।
কর্মজীবনে তিনি নৌবাহিনী পদক (এনবিপি), নৌ পারদর্শিতা পদক (এনপিপি), জাতীয় শুদ্ধাচার পুরস্কার ও জাতীয় স্কাউট পুরস্কারসহ বিভিন্ন সম্মাননা পেয়েছেন। তিনবার নৌবাহিনী প্রধানের প্রশংসাসূচক ইনসিগনিয়াও অর্জন করেছেন।
সামুদ্রিক নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা এবং সামরিক ও নৌ-কৌশলগত বিষয়ে তাঁর একাধিক গবেষণামূলক প্রবন্ধ বিভিন্ন জার্নাল ও সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি মালে ও ফরাসি ভাষায়ও ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জন করেছেন।