সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৪৪ অপরাহ্ন

শিরোনাম
ঢাবিতে সুফি সংস্কৃতি নিয়ে দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যানের মা ফরিদা বেগম আর নেই ফুলবাড়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডায়াবেটিসের ওষুধ সংকট, ভোগান্তিতে নিম্ন আয়ের রোগী রাজশাহীতে জিয়া মঞ্চের বিভাগীয় সম্মেলন সম্পন্ন উৎসাহ-উদ্দীপনায় শ্রী কৃষ্ণের জন্মতিথি জন্মাষ্টমী উদযাপিত ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম নৃত্য ও সংস্কৃতি : রুহুল কবির রিজভী যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর নতুন ভারপ্রাপ্ত সচিব নিয়োগ দিলেন ট্রাম্প মেসির পর অবসরের ঘোষণা দিলেন বিশ্বকাপজয়ী আরেক তারকা ভক্তদের সুখবর দিলেন মল্লিক বাড়ির বাবা-মেয়ে যে ৫ খাবার ফ্রিজে রেখে বাসি করে খেলে রোগীদের সুগার বৃদ্ধির ঝুঁকি কমবে!

ঢাবিতে সুফি সংস্কৃতি নিয়ে দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন

স্টাফ রিপোর্টার : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘সুফি সংস্কৃতি: মধ্যপ্রাচ্য, পশ্চিম আফ্রিকা ও বাংলাদেশ’ শীর্ষক ৮ম আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ এবং দারুল ইরফান রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (DIRI) যৌথ উদ্যোগে আরসি মজুমদার আর্টস মিলনায়তনে দিনব্যাপী এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. মুমিত আল রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান এবং বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহাদাত হোসাইন বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।

স্বাগত বক্তব্য দেন দারুল ইরফান রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ম্যানেজিং ট্রাস্টি শাহজাদা সৈয়দ ইরফানুল হক। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সম্মেলন আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মুহসীন উদ্দীন মিয়া। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আহসানুল হাদী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, বর্তমান সংকটময় বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সুফি সাধকদের মানবপ্রেমের বাণী প্রচার করা জরুরি। সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় রোধে সুফি সংস্কৃতির চর্চা ও গবেষণা আরও জোরদার করতে হবে। এ ক্ষেত্রে মাওলানা জালালুদ্দীন রুমি, মোহাম্মদ হাফিজ শিরাজী ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাম্য ও মানবপ্রেমের দর্শন সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে।

তিনি বলেন, সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় সুফি সংস্কৃতির মানবিক শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ বিষয়ে গবেষকদের আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সম্মেলনের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাহরাইনের সুপ্রিম কোর্টের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. ইব্রাহিম আল-শেখ রশিদ আল-মুরাইখী এবং মিশরের আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জামাল ফারুক জিবরিল মাহমুদ। ড. আল-মুরাইখী ‘Sufism in the Arab Gulf States: A Case Study of the Khalidi Naqshbandi Order’ এবং ড. মাহমুদ ‘The Jurisprudential Vision of Al-Azhar Al-Sharif on the Issue of Sama’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

ড. ইব্রাহিম আল-শেখ রশিদ আল-মুরাইখী হাদিসে জিবরাইলের আলোকে ইসলাম, ঈমান ও ইহসানের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করেন। তিনি ইহসান, আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করে এগুলোকে সুফি সাধনার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরেন।

অন্যদিকে ড. জামাল ফারুক জিবরিল মাহমুদ সামা প্রসঙ্গে বলেন, এর বৈধতা নির্ধারণে পরিস্থিতি ও উদ্দেশ্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

অধ্যাপক ইমেরিটাস ড. আনিসুজ্জামান বলেন, উপমহাদেশে সুফি-চর্চার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে এবং বাংলাদেশের সঙ্গে এর গভীর সম্পর্ক রয়েছে। সুফি সাধকেরা আত্মশুদ্ধি, নৈতিকতা ও মানবিকতার শিক্ষা দিয়েছেন। নিজেদের ইতিহাস ও সুফি ঐতিহ্য নিজেদের দৃষ্টিকোণ থেকে জানা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তা তুলে ধরা জরুরি।

মো. শাহাদাত হোসাইন বলেন, সুফিবাদের মূল ভিত্তি আত্মশুদ্ধি। সমাজ পরিবর্তনের আগে মানুষকে নিজের অন্তরকে শুদ্ধ করতে হবে। বর্তমান নৈতিক অবক্ষয়ের সময়ে তাকওয়া, মানবপ্রেম, সহমর্মিতা ও আত্মশুদ্ধির সুফি শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মুহসীন উদ্দীন মিয়া বলেন, সুফি সংস্কৃতিকে শুধু আধ্যাত্মিক সাধনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ভালোবাসা, সহিষ্ণুতা, মানবিকতা ও কল্যাণের শিক্ষা হিসেবে দেখতে হবে। সুফি সংস্কৃতির মানবিক শিক্ষা ধারণ করে একটি শান্তিপূর্ণ ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

উদ্বোধনী পর্ব শেষে সম্মেলনের বুকলেট উন্মোচন করা হয়। একই সঙ্গে সুফি কবি ফরিদউদ্দিন আত্তারের ‘মুসিবতনামা’ গ্রন্থের বাংলা অনুবাদের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ২২ জন শিক্ষার্থী ও গবেষকের সম্মিলিত অনুবাদে প্রকাশিত গ্রন্থটিতে ‘মুসিবতনামা’র ২২টি গল্প গদ্যরূপে বাংলায় উপস্থাপন করা হয়েছে।

পরে অধ্যাপক ড. শাহ কাওসার মুস্তাফা আবুলউলায়ীর সভাপতিত্বে প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অধ্যাপক ড. কে এম সাইফুল ইসলাম খান ও ড. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ অংশ নেন। এছাড়া সিরিয়ার দামেস্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. ফেইরোজ আসাদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মেহেদী হাসান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শেখ সাদী এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ইয়াসমিন আরা সাথী আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে সুফিবাদের ধর্মতাত্ত্বিক, সামাজিক ও সাহিত্যিক প্রভাব নিয়ে গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন।

সম্মেলনের সভাপতির বক্তব্যে ড. মো. মুমিত আল রশিদ বলেন, যুদ্ধ, সংঘাত ও বিভেদের এই সময়ে সুফি সংস্কৃতির ভালোবাসা, সম্প্রীতি, সহনশীলতা ও ঐক্যের শিক্ষা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। ফারসি, আরবি, বাংলা, উর্দু, পালি ও সংস্কৃতসহ বিভিন্ন ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের মধ্যে যৌথ গবেষণা ও একাডেমিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তিনি বাংলাদেশে ফারসি ভাষা ও সাহিত্যকে আরও পরিচিত করতে অনুবাদ, গবেষণা ও নতুন প্রকাশনার ওপর গুরুত্ব দেন।

দিনব্যাপী এ সম্মেলনে সুফিবাদের মানবিকতা, আত্মশুদ্ধি, শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তার পাশাপাশি ফারসি ভাষা ও সাহিত্যচর্চায় গবেষণা, অনুবাদ এবং আন্তর্জাতিক একাডেমিক সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: