বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২৭ পূর্বাহ্ন
কুমিল্লা জেলাজুড়ে উঠতি বয়সী কিশোরদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও গ্যাং কালচার রোধে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। জেলার বিভিন্ন এলাকায় বখাটেদের দৌরাত্ম্য ও অপরাধপ্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিঘ্নিত হচ্ছিল। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে জেলার ১৮টি থানায় একযোগে এই বিশেষ সাঁড়াশি অভিযান পরিচালিত হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার সন্ধ্যা ছয়টা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী এই অভিযান চালানো হয়। কুমিল্লা নগরীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোসহ প্রতিটি থানার চিহ্নিত ও বখাটে অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরাসরি উপস্থিত থেকে পুরো অপারেশন তদারকি করেন। এর মধ্যে কোতোয়ালি এবং সদর দক্ষিণ থানা এলাকা থেকেই তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক কিশোরকে আটক করা হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইশতিয়াক হাসান গণমাধ্যমকে জানান, আটককৃতদের বিরুদ্ধে অতীতে কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার রেকর্ড আছে কি না, তা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। প্রাথমিক তথ্য যাচাই শেষে তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে অভিযان চলাকালে দাউদকান্দি থানা এলাকায় অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। কিশোর গ্যাং সন্দেহে আটক হওয়া স্বজনদের ছাড়িয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে একটি পক্ষ থানায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও হট্টগোল সৃষ্টি করে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই বিশৃঙ্খলার সুযোগ নিয়ে আটক কয়েকজন কিশোর পুলিশের নজর এড়িয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়, যা পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা গেছে।
উল্লেখ্য, কিছুদিন আগে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের সন্তান ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম কিশোর গ্যাংয়ের নৃশংস হামলায় নিহত হন। ওই হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই পুরো জেলাজুড়ে সাধারণ মানুষ ও সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার জোরালো দাবি ওঠে। মূলত সেই হত্যাকাণ্ডের তীব্র জনরোষ এবং অপরাধ দমনের অংশ হিসেবেই পুলিশ এই বৃহৎ পরিসরে অভিযান শুরু করেছে।