মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:২৭ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
জাতীয় বন্দর কৌশল: ঋণের কিস্তি পরিশোধেই যাবে আয়ের পাঁচ গুণ কাতারের মধ্যস্থতায় আলোচনা, ‘আশা করছি মঙ্গলবার মার্কিন জবাব পাব’: আরাগচি সংবিধান সংশোধন: ফের গণভোটের উদ্যোগে প্রশ্ন নভেম্বরেও এলএনজি দেবে না কাতার তৃণমূলের নাম-প্রতীক বিরোধ চার মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের ইসরাইলের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ, রাষ্ট্রদূতকে তলব নেদারল্যান্ডসের যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা ইরানের অবস্থানকে দুর্বল করবে: ইরানি আইনপ্রণেতা ‘আবুল মনসুর আহমদের পূর্ব বাংলা’ চিন্তার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে ১০ লিটার জ্বালানিতে ৫৩০ মিলিলিটার কম, যাত্রাবাড়ীতে ফিলিং স্টেশন বন্ধ করল বিএসটিআই একনেকে উঠছে ১৮ হাজার কোটি টাকার ১৬ প্রকল্প

সংবিধান সংশোধন: ফের গণভোটের উদ্যোগে প্রশ্ন

সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে নতুন করে আরেকটি গণভোট আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, সংবিধানের প্রস্তাবনা ও নির্দিষ্ট কিছু অনুচ্ছেদে পরিবর্তন আনতে হলে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার অংশ হিসেবে এই ভোট প্রয়োজন। তবে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো এই পদক্ষেপের কঠোর বিরোধিতা করে দাবি করছে যে, এর মাধ্যমে ইতিপূর্বে অনুষ্ঠিত একটি জনমতের রায়কে অস্বীকার করার প্রচেষ্টা চলছে। বিরোধী মহলের মতে, সরকার নতুন করে গণভোটের আয়োজন করে মূলত পূর্বের রায়ের কার্যকারিতা নষ্ট করতে চাইছে।

এর আগে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে একই দিনে গণভোট সম্পন্ন হয়েছিল এবং সেখানে জুলাই জাতীয় সনদের পক্ষে জনগণ রায় দিয়েছিল। বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ বিভিন্ন পক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, সেই গণভোটে নাগরিকরা সংবিধান সংস্কারের পক্ষে সুস্পষ্ট সম্মতি জানিয়েছে। ফলে নতুন করে আরেকটি ভোট আয়োজনের কোনো যৌক্তিকতা নেই বলে তারা মনে করছেন। দলগুলোর অভিযোগ, সরকার জুলাই সনদের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসে নিজেদের মতো করে সংবিধান সংশোধন করতে চায় এবং নতুন ভোটের মাধ্যমে তা বৈধ করার পাঁয়তারা চালাচ্ছে। বিরোধী সংসদ সদস্যরাও এই বিষয়ে রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন এবং পূর্বের গণভোটের রায় অনুযায়ী সংস্কার বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছি।

এদিকে সরকারের গঠিত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ অবশ্য এই অবস্থানকে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা হিসেবেই দেখছেন। কমিটির সদস্য ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা বলছেন, বিরোধী দলগুলো কমিটিতে অংশ না নিলে একতরফাভাবে হলেও তাদের আইনি প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে হবে। তবে আইনবিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, উচ্চ আদালতের রায়ের মাধ্যমেই গণভোটের বিধান ইতিমধ্যে সংবিধানে পুনর্বহাল হয়েছে, তাই নতুন করে আইন পাস বা পৃথক ভোট আয়োজনের অতিরিক্ত প্রয়োজন নেই। অন্য কিছু বিশেষজ্ঞ অবশ্য মনে করছেন, নির্দিষ্ট কিছু অনুচ্ছেদ সংশोधনের ক্ষেত্রে সরকারের এই প্রক্রিয়া অনুসরণের সুযোগ রয়েছে, যদিও পূর্ণাঙ্গ রায় পর্যালোচনার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত ছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, চলমান এই বিতর্কের পেছনে কেবল আইনি বা সাংবিধানিক ব্যাখ্যার চেয়ে রাজনৈতিক স্বার্থ ও দৃষ্টিভঙ্গিই বেশি জোরালোভাবে কাজ করছে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও অভ্যুত্থানের পর গড়ে ওঠা সাংবিধানিক কাঠামোকে এভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করায় দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে উদ্ভূত রাজনৈতিক সংকট সামনের দিনগুলোতে আরও ঘনীভূত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জুলাই সনদের বাস্তবায়ন এবং জনগণের দেওয়া আগের ম্যান্ডেটকে পাশ কাটিয়ে চলার এই প্রবণতা দেশের রাজনীতিতে নতুন কোনো অস্থিরতা তৈরি করবে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: