বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:০৮ অপরাহ্ন
চট্টগ্রাম নগরের খুলশী এলাকার ওয়্যারলেস কলোনিতে ‘সেভেন স্টার’ নামক একটি কিশোর গ্যাংয়ের টিকটক ভিডিওতে কিরিচ উঁচিয়ে প্রদর্শনের মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় নৃশংস এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় একটি ঝামেলার জের ধরে মো. হৃদয় নামের ষোলো বছর বয়সী এক কিশোরকে ডেকে নিয়ে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়। ঘটনার পরই পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে এক প্রাপ্তবয়স্কসহ মোট ছয়জনকে আটক করে, যাদের মধ্যে টিকটক ভিডিওতে অস্ত্রহাতে থাকা এক কিশোরও রয়েছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণে প্রকাশ, ওয়্যারলেস কলোনির তালতলা এলাকায় পূর্ববিরোধের জেরে হৃদয়কে তার বাসা থেকে ডেকে এনে অটোরিকশা থেকে নামানো হয়। ১৪ বছর বয়সী এক কিশোর প্রথমে তার কানে ধারালো কিরিচ দিয়ে কোপ দেয় এবং পরবর্তীতে চক্রের বাকি সদস্যরা তার পেটে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে উপর্যুপরি ছুরি চালায়। শত মানুষের সামনে এই হামলা হলেও আতঙ্কে কেউ এগিয়ে আসার সাহস পাননি, পরবর্তীতে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানতে পেরেছে যে, স্থানীয় ‘ফাইভ স্টার’ ও ‘সেভেন স্টার’ নামক দুটি কিশোর গ্যাংয়ের দীর্ঘদিনের বিরোধ এবং সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্বের পরিণামেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত হৃদয় ফাইভ স্টার গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং এ সংক্রান্ত একটি বিষয় নিয়ে কটূক্তি করায় প্রতিপক্ষ গ্রুপটি ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে কৌশলে ডেকে আনে। ঘটনার পর পুলিশ রক্তমাখা কিরিচটি উদ্ধার করে এবং জড়িত বাকি অপরাধীদের গ্রেফতারে সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
এদিকে এই কিশোর গ্যাংগুলোর মদদদাতা হিসেবে স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক প্রভাবশালীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে যা নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড এবং দখলবাজির অভিযোগে অতীতে কিছু নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও স্থানীয়রা এ ধরনের গ্যাং কালচার নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। নিহত হৃদয়ের বাবা একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী এবং তিনি ভ্যানে করে সবজি বিক্রি করে সংসার চালাতেন, একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে পরিবারটি এখন দিশাহারা এবং তারা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছেন।