শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৪ পূর্বাহ্ন
মোঃ লিটন সিকদার, কালিয়া (নড়াইল) প্রতিনিধি :: নড়াইলের কালিয়া উপজেলার নড়াগাতী থানার গহরডাঙ্গা ইউনিয়নের চর-মধুপুর গ্রামে মধুমতি নদীর ভয়াবহ ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘদিনের নদীভাঙনে ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি হারিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকার শত শত পরিবার। দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে মধুমতি নদীর ভাঙন অব্যাহত থাকলেও এখনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। এতে একের পর এক বসতভিটা ও শত শত বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। অনেক পরিবার হারিয়েছে তাদের শেষ আশ্রয়স্থল। ভিটেমাটি হারিয়ে কেউ খোলা আকাশের নিচে, আবার কেউ অন্যের আশ্রয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বাসিন্দারা বলেন, নদীভাঙনের কারণে চর-মধুপুর গ্রামের মানুষের জীবন-জীবিকা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে পুরো গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নিজেদের বসতভিটা, কৃষিজমি ও জীবিকার অবলম্বন রক্ষায় তাঁরা দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন মোঃ হিটু মল্লিক, মোঃ মিজান মল্লিক, কুল মল্লিক, অ্যাডভোকেট গাউস মল্লিক, মোঃ কুদ্দুস মল্লিক, স্বপ্না বেগম ও মোসাম্মৎ মমতাজ বেগমসহ স্থানীয় বাসিন্দারা।
বক্তব্যে মোঃ মিজান মল্লিক বলেন, নদীভাঙনে অনেক মানুষ বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। এভাবে ভাঙন চলতে থাকলে গ্রামের অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়বে। তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
অ্যাডভোকেট গাউস মল্লিক বলেন, নদীভাঙনের কারণে এলাকার শিক্ষার্থীরাও আতঙ্ক ও ভোগান্তির মধ্যে রয়েছে। ভাঙনপ্রবণ এলাকার কাছাকাছি গেলেই তাদের মধ্যে ভয় তৈরি হয়। এ পরিস্থিতি থেকে এলাকাবাসীকে রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয় বাসিন্দা স্বপ্না খানম আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “আমার ঘর নেই, মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই, এমনকি এক শতক জমিও নেই। এভাবে আমরা কীভাবে বাঁচব?”
মোঃ হিটু মল্লিক বলেন, নদীভাঙন বন্ধ হলে এলাকার মানুষ তাদের বসতভিটা ও জীবিকার অবলম্বন ফিরে পাওয়ার সুযোগ পাবেন। তাই আর কোনো পরিবার যেন ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব না হয়, সে জন্য দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করতে হবে।
মানববন্ধন থেকে ভাঙনকবলিত মানুষের দুর্ভোগ লাঘব এবং চর-মধুপুর গ্রাম রক্ষায় স্থানীয় সংসদ সদস্য, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।