বুধবার, ১৯ Jun ২০২৪, ০৬:৫৮ অপরাহ্ন

শিরোনাম
মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে বঙ্গবন্ধু বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত শিক্ষার্থী নির্যাতন প্রতিরোধে মাদরাসা প্রধানদের সাথে পুলিশের মতবিনিময় সভা মালয়েশিয়ায় ১২৩ বাংলাদেশীসহ ২১৪ অবৈধ অভিবাসী গ্রেপ্তার বেনজিরের আরও সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ মডেল মির্জা মাহির প্রথম মিউজিক ভিডিও “কিশোরী রোদ” জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এর সাংগঠনিক সম্পাদক আমান ডেঙ্গু জ্বর আক্রান্ত শিবালয়ে ভূমি সেবা সপ্তাহ শুরু উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা রাজশাহী নগরীতে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ২৫ চৌদ্দগ্রামে ভূমি সেবা সপ্তাহ’র ২০২৪ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন কবে, জানালেন ওবায়দুল কাদের

ঠাকুরগাঁওয়ে মাটির ব্যাংকে জমানো টাকায় মানব সেবায় দিয়ে দিলেন তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী মুক্তা

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি : বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাসের প্রভাবে পুরো বাংলাদেশ এখন লকডাউন। এর প্রভাবে থমকে গেছে অর্থনীতির চাকা, কর্মহীন হয়ে পড়েছে সারাদেশের মানুষ। দূর্দশা আর দৈন্যতায় দিন কাটছে নিম্নআয়ের মানুষদের।

মানুষ মানুষের জন্য- জীবন জীবনের- ভূপেন হাজারিকার এই কালজয়ী গানটি এবার যথার্থ ব্যবহৃত হলো।

প্রিয়জনদের থেকে পাওয়া উপহার ও স্কুলের টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে জমানো টাকা কর্মহীন, অসহায়, অসচ্ছল ও অভুক্ত মানুষদের মাঝে উপহার দিয়েছে ঠাঁকুরগাও সেন্ট মাদার তেরেসা স্কুলের ৩য় শ্রেনীর ছাত্রী মোছা: মুক্তা আক্তার।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুর ১২ টায় ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক ড. এ কে এম কামরুজ্জামান সেলিমের হাতে তার সঞ্চয়কৃত মাটির ব্যাংকের ২ বছরের জমানো টাকা অসহায় দরিদ্রদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে জমার জন্য তুলে দেয়।

এসময় জেলা প্রশাসক আবেগআপ্লুত হয়ে বলেন, ছোট্ট শিশুর মাটির ব্যংকে জমানো টাকা এভাবে অসহায় দরিদ্য মানুষের জন্য দেওয়াটা আমি অনুকরনীয় বলে মনে করছি। তার কোমল হৃদয়ে যে করোনার বিষয়টি আঘাত করেছে এবং সে এ ক্রান্তিকালে গরীব অসহায়দের জন্য ভেবেছে এটাই বিশাল বড় পাওয়া। দেশের এই সংকটের মুহুর্তে স্কুল ছাত্রী মুক্তার এই অবদান আমরা সবসময় মনে রাখবো।

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের তান্ডবে সন্তানরা যখন তাদের পিতা-মাতাদের জঙ্গলে ফেলে যাচ্ছে, শেষবারের মতন প্রিয়জনদের লাশ দেখতে আসছে না কেউই, দাফনেও পাওয়া যাচ্ছে না স্বজনকে এমন সময় আর্তমানবতায় সেবায় এগিয়ে এসে অনন্য নজির সৃষ্টি করেছে শিশু মুক্তা।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের আব্দুল লতিফ ও গৃহিণী নাসিমা বেগমের একমাত্র কন্যা মুক্তা। এই সংকটে মেয়ের এমন দানে গর্বিত পিতামাতা।

বড় হয়ে দেশসেবায় মানুষের পাশে দাড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন তারা। স্কুল ছাত্রী মুক্তা জানান, আমি টিভিতে দেখেছি গরীব মানুষরা অসহায়ভাবে দিন যাপন করছেন।

তারা অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে। তাই আমি আমার ২ বছরের টিফিনের জমানো টাকা ও বিভিন্ন সময় উপহারের জমানো টাকা গরীব মানুষদের জন্য দিয়ে দিলাম। ছোট্ট শিশুর এমন অবদানে অভিভুত ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ।

তারা বলছেন, এটি যেমন গর্বের তেমনি সমাজের বিত্তবানদের জন্যে ভীষন লজ্জারও বটে। কোমলমতি এই শিশুর দেখানো পথে সমাজের নিম্নআয়ের মানুষদের পাশে বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহবান জানান তারা।


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: