মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২৮ অপরাহ্ন
জাতীয় ডেস্ক: বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা কেবল দেবীর আরাধনা নয়, বরং এটি স্বজন ও আপনজনদের মিলনমেলার এক সুমহান উপলক্ষ। মুন্সিগঞ্জের বালাশুরের নাগরনন্দী ঘোষবাড়িতে আয়োজিত দুর্গাপূজাটি সময়ের পরিক্রমায় কেবল একটি পারিবারিক আয়োজন থেকে রূপ নিয়েছে বৃহত্তর সামাজিক উৎসবে। পেশাগত বা অন্যান্য ব্যস্ততায় সারা বছর দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা পরিবারের ১৪টি শাখার সদস্যরা এই পূজার কটি দিন এক ছাদের নিচে মিলিত হন। বড়দের সান্নিধ্য ও ছোটদের পদচারণায় মুখরিত এই পুরোনো বাড়িটি হয়ে ওঠে আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের এক পরম মিলনায়তন।
পরিবারের সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক দূরত্ব কমিয়ে শেকড়ের টান টিকিয়ে রাখার মহৎ উদ্দেশ্যে ২০১৫ সালে এই সুসংগঠিত পারিবারিক পূজার যাত্রা শুরু হয়েছিল। শুরুতে ছোট পরিসরে শুরু হলেও পরবর্তী সময়ে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এর পরিধি ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। করোনা মহামারি কিংবা বিভিন্ন সময়ের প্রতিকূল পরিস্থিতিও এই ঐতিহ্যবাহী আয়োজন থমাতে পারেনি। পরিবারের সদস্য ও উদ্যোক্তাদের নিরলস শ্রম এবং আর্থিক সহযোগিতায় বর্তমানে এই পূজার বাজেট প্রায় ২৫ লাখ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। এছাড়া স্থানীয় মুসলিম প্রতিবেশী ও শুভানুধ্যায়ীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এই উৎসবকে দিয়েছে এক অসাম্প্রদায়িক ও সার্বজনীন রূপ।
এবারের পূজামণ্ডপের মূল থিম বা ভাবনার কেন্দ্রে রাখা হয়েছে অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীক ‘সম্প্রীতির বাংলাদেশ’। মণ্ডপ চত্বরে মসজিদ, মন্দির ও গির্জার প্রতীকী উপস্থাপনার মাধ্যমে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের জোরালো বার্তা তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিমার সাজসজ্জা এবং অলংকারাদি বিশেষভাবে সংগ্রহ করা হয় কলকাতার ঐতিহ্যবাহী কুমারটুলি থেকে, যা এই আয়োজনে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। প্রতিবছর মুন্সিগঞ্জ সদর ছাড়াও পদ্মার এপারের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে হাজার হাজার দর্শনার্থী এই মনোমুগ্ধকর পূজা ও মণ্ডপ পরিদর্শনে ছুটে আসেন।
পূজার আনন্দকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয় এর ঐতিহ্যবাহী প্রসাদ বিতরণ ও সামাজিক ভোজের আয়োজন। ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত চলা এই উৎসবে প্রতিদিন প্রায় ১৫ থেকে ১৬ হাজার ভক্ত ও আগত অতিথির জন্য মহাভোজ ও প্রসাদের ব্যবস্থা করা হয়। ভুনা খিচুড়ি, বিভিন্ন পদের মিষ্টি, নাড়ু, মোয়া এবং ফলমূলের সুস্বাদু আয়োজনে অংশ নেন সর্বস্তরের মানুষ। বয়োজ্যেষ্ঠদের তত্ত্বাবধানে পরিবারের নারী সদস্য ও তরুণ প্রজন্ম সম্মিলিতভাবে নাড়ু তৈরি থেকে শুরু করে পূজার সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেন, যা নতুন প্রজন্মের মধ্যে পারিবারিক ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির বীজ বপন করে চলেছে।