সোমবার, ০৯ নভেম্বর ২০২৬, ০১:২৭ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
ভূমি নিবন্ধন কার্যক্রম ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে আনার সুপারিশ পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা: পদত্যাগ করলেন আরও এক বিচারপতি সরকার গঠনের দায়িত্ব পেয়ে আইজেনকট বললেন, সবার জন্য দরজা খোলা ‘ভারত-বাংলাদেশকে নিয়ে টুর্নামেন্ট করুন, আমাদের সময় নষ্ট করবেন না’, শ্রীলঙ্কার কোচের বিস্ফোরক মন্তব্য আলো-ছায়ার দ্বৈত ভাষা ‘প্রতিবিম্ব কবিতা’ উপসাগরীয় ৬ দেশকে যুক্ত করবে ২১০০ কিলোমিটারের এক রেললাইন লক্ষ্মীপুরে আন্তঃ উপজেলা বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত শিবালয়ে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপন তিন বছরে পোশাকশ্রমিকের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে তিন ভাগের এক ভাগ সুবর্ণচরে সাগরিকা সমাজ উন্নয়ন সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ফজলুল হক এর মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

ভূমি নিবন্ধন কার্যক্রম ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে আনার সুপারিশ

নিউজ ডেস্ক: দেশের ভূমি খাতের শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রস্তাবনা সামনে এসেছে। সম্প্রতি জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত ভূমি মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে ভূমি নিবন্ধন কার্যক্রম সরাসরি ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যস্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে। মূলত সাবরেজিস্ট্রারদের দৌরাত্ম্য পুরোপুরি বন্ধ করা এবং সম্পূর্ণ হয়রানিমুক্ত ও জনবান্ধব ভূমিসেবা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যেই এই কঠোর পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে। বর্তমানে জমি কেনাবেচা ও নিবন্ধনের পুরো প্রক্রিয়াটি আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ দপ্তরের মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে আসছে।

বৈঠক শেষে সংসদ সচিবালয়ের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় যে, বর্তমান সরকার সমাজের সব ধরনের বৈষম্য, অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি চিরতরে নির্মূল করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই ভূমিসংক্রান্ত সব সেবা দেশের সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। এর পাশাপাশি নামজারি বা মিউটেশন প্রক্রিয়াটি শতভাগ স্বয়ংক্রিয় বা অটোমেশনের আওতায় আনার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। মাঠপর্যায়ে ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ফেরাতে এবং দালালদের প্রভাব কমাতে এই কাঠামোগত পরিবর্তনের বিকল্প নেই বলে মনে করছে সংসদীয় কমিটি।

এ ছাড়া জমির সঠিক বাজারমূল্য নির্ধারণ এবং বিভিন্ন ফি কমানোর বিষয়েও সুনির্দিষ্ট কিছু প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কমিটি জানিয়েছে, উপজেলা, পৌরসভা এবং সিটি করপোরেশন এলাকার জন্য ভূমির প্রকৃত বাজারমূল্য নির্ধারণ করা জরুরি। একই সঙ্গে স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জমি হস্তান্তরসংক্রান্ত বিভিন্ন ফি এবং গেইন ট্যাক্স বা মূলধনী লাভ কর একটি যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার সুপারিশ করা হয়েছে। একই বৈঠকে জেলাভিত্তিক অর্পিত সম্পত্তির সঠিক পরিমাণ ও সম্ভাব্য মৌজা মূল্য নির্ধারণের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা পুরোনো মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির তাগিদ দেওয়া হয়।

ভূমি খাতের দুর্নীতি রোধে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে এবং বিভিন্ন অনিয়ম ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে। মাঠপর্যায়ে সহকারী কমিশনার ভূমি কার্যালয়, ভূমি অধিগ্রহণ শাখা এবং কানুনগো অফিসে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ যেন কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে সজাগ থাকতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে, একই জমির ভুয়া দলিল জামানত রেখে দেশের একাধিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে বড় অঙ্কের ঋণ নেওয়ার মতো বড় ধরনের আর্থিক অনিয়ম প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রচলিত ভূমি প্রশাসন ব্যবস্থাকে একটি আধুনিক, সমন্বিত ও পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনা রূপরেখায় রূপান্তর করার ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি নাসের রহমান। এ সময় বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন কমিটির সদস্য ও ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, জয়নাল আবদিন, সুলতানা আহমেদ, মো. মাহবুবুর রহমান বেলাল ও মুহাম্মদুল্লাহ। দেশের সার্বিক ভূমি ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং জনদুর্ভোগ লাঘবে সংসদীয় কমিটির এই সুপারিশগুলো অত্যন্ত দূরদর্শী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: