শনিবার, ২৭ Jun ২০২৬, ০৬:১৩ অপরাহ্ন

ঠাকুরগাঁওয়ে ভোটার আইডি কার্ড না থাকায় ত্রাণ বঞ্চিতদের হাহাকার

 ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি : বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাসের কারনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে গত ২৬ মার্চ থেকে দেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছেন সরকার।

ভোটার আইডি কার্ড না থাকায় অসহায়, ভাসমান গরীব ও দুস্থ ব্যক্তিদের করেনাভাইরাসের মহামারীর কারণে লকডাউনের মধ্যে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন দেশের বিভিন্ন পেশা শ্রমজীবী মানুষ। কর্মের প্রয়োজনে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় এসে কাজ করেন তারা।

কখনো-কখনো অন্য জেলাতে কাজের প্রয়োজনে থেকেও যান তারা। কাজের প্রয়োজনে ভিন্ন জায়গা থেকে আসা পূর্ব গোয়াল পাড়ার অনিতা সেনের সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমাদের বাড়ি রুহিয়া থানায় দীর্ঘ দিন ধরে শহরে থাকি। আমার স্বামী ভ্যান চালায়। বর্তমানে লকডাউন থাকার কারনে আয়-রোজগার নাই বললেই চলে। খুব কষ্টে দিন পার করছি। এখানকার মেম্বারের কাছে গেলে মেম্বার বলে তোমরা এ এলাকার ভোটার না।

আবার আমার এলাকায় গেলে সেখানকার চেয়ারম্যান আমাদের জানান, যেখানে আছো সেখানেই স্থানীয়ভাবে ত্রাণ পাবে। তাহলে আমরা কিভাবে চলবো। পাশে থাকা সুমাইয়া জানান, আমার বাসা বোদায় থানায় আমি শহরে আছি ২০ বছর ধরে আমার স্বামী নাই। ছেলে বিয়ে করে আলাদা থাকে। আমি এক হোটেলে কাজ করতাম কিন্তু হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায়, প্রায়ই খেয়ে না খেয়ে দিন পার করছি। আমি এখানেকার ভোটার না হওয়ায় কারো কাছে কোন রকম সাহায্য সহযোগিতা পাচ্ছিনা।

টিকিয়া পাড়ায় বসাবাসরত হোটেল শ্রমিক হাফিজুল বলেন, আমি স্থানীয় এক চা হোটেলে কাজ করতাম কিন্তু করোনাভাইরাসের কারনে সব বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমার তেমন আয়-রোজগার নেই। আমি ১ মাস ধরে অসুস্থ্য ওষুধ কেনার মতোও টাকা নাই।

খাদ্যের অভাবে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে বসবাসরত এ এলাকার ভোটার আইডি ছাড়া অসহায় দিনমুজুর মানুষের পেটে চলছে অনাকাঙ্খিত ও অঘোষিত লক-ডাউন। অসহায় এই মানুষগুলো একদিকে যেমন করোনা আতঙ্ক আর অন্যদিকে কাজ না পেয়ে নিদারুন ক্ষুধার যন্ত্রনা নিয়ে তাকিয়ে আছে সমাজের বিত্তবান, সমাজ সেবক ও জনপ্রতিনিধিদের মুখের দিকে।

ঠাকুরগাঁও পৌর শহরে ছোট-বড় অনেক বস্তি রয়েছে এর মধ্যে গোয়াল পাড়া, ইসলামবাগ, টিকিয়াপাড়া, পূর্ব গোয়াল পাড়া, সরকার পাড়া, বশির পাড়া, হাজীপাড়া, ডিসি বস্তি, খালপাড়া, সেনুয়া পাড়া, রোডসহ আরো অনেক এলাকা। এসব বস্তিসহ আশপাশে থাকা দরিদ্র মানুষের মাঝে সরকারিভাবে এবং স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে সচেতনতার বার্তা প্রতিনিয়ত পৌঁছালেও বেশির ভাগই পাননি ভোটার আইডি কার্ড না থাকায় খাদ্য সহযোগিতা।

এবিষয়ে ৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নুর ইসলাম নুরুর সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমি যা বরাদ্দ পেয়েছি তা স্থানীয় অসহায় মানুষদের তুলনায় অনেক কম তাই স্থানীয় ভোটার আইডি কার্ড থাকাদেরই বেশির ভাগ প্রদান করতে হয়েছে।

এবিষয়ে সংরক্ষিত মহিলা আসনের কাউন্সিলর নাজিরা আক্তার বলেন, প্রথম অবস্থায় এককালীন ত্রাণ প্রদানে যে বরাদ্দ এসে ছিল তা ছিন্ন মুল অসহায়দের মাঝে বণ্টন করেছি। তবে আরো ত্রান না পাওয়া অসহায় রয়েছে।


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: