শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১১ পূর্বাহ্ন
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি:
গোপালগঞ্জে ধর্ম অবমাননার ভিত্তিহীন অভিযোগে ময়মনসিংহের ভালুকায় দিপু চন্দ্র দাসকে পৈশাচিক কায়দায় পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছে গোপালগঞ্জ। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে গতকাল ২৬ ডিসেম্বর শুক্রবার জেলা শহরে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট গোপালগঞ্জ জেলা শাখার আহ্বানে গতকাল শহরের কেন্দ্রীয় কালীবাড়ি মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক গুলো প্রদক্ষিণ করার সময় অংশগ্রহণকারীদের ‘দিপু দাসের রক্ত বৃথা যেতে দেব না’, ‘খুনিদের ফাঁসি চাই’—এমন সব স্লোগানে রাজপথ প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। মিছিল শেষে স্থানীয় প্রেসক্লাবের সামনে শত শত মানুষ হাতে হাত ধরে এক ঘণ্টা ব্যাপী মানববন্ধনে অংশ নেন।
“এটি কেবল হত্যা নয়, পরিকল্পিত সাম্প্রদায়িক চক্রান্ত” মানববন্ধন চলাকালে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় বক্তারা দিপু দাসের ওপর চালানো বর্বরতার তীব্র নিন্দা জানান। সংগঠনের জেলা সভাপতি বিজয় দাশ রায় বলেন: “দিপু চন্দ্র দাসকে কোনো প্রমাণ ছাড়াই শুধু সন্দেহের বশে যেভাবে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয়েছে, তা মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানায়। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে গুজব ছড়িয়ে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।”
বীর মুক্তিযোদ্ধা মনোজ কান্তি বিশ্বাস তাঁর বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন: “আমরা যে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে যুদ্ধ করেছিলাম, সেখানে গতকাল মানুষের জীবন প্রদীপ্ত আগুনের শিখায় নিভে যাচ্ছে গুজবের কারণে। প্রশাসনের নাকের ডগায় এই ধরনের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড রাষ্ট্র হিসেবে আমাদের জন্য লজ্জাজনক।”
সাধারণ সম্পাদক বিবেক বিশ্বাস ও সাবেক প্রধান শিক্ষক স্বপন চক্রবর্ত্তী বলেন, যারা ধর্মের দোহাই দিয়ে মানুষ হত্যা করে, তারা কোনো ধর্মের অনুসারী হতে পারে না। বক্তারা অবিলম্বে ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারীদের চিহ্নিত করে বিশেষ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান। অন্যান্য বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি আগামী ৭ দিনের মধ্যে ঘটনার সাথে জড়িত সকল অপরাধীকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা না হয়, তবে সারা দেশে আরও কঠোর ও লাগাতার কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
কর্মসূচিতে হিন্দু মহাজোটের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সাধারণ পেশাজীবী মানুষ সংহতি প্রকাশ করেন। উপস্থিত ছিলেন বিনয় মধু, বিশ্বজিৎ পান্ডে, সবুজ রায়, চন্দন মন্ডলসহ জেলা পর্যায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। বিকেল নাগাদ মানববন্ধন শেষ হলেও শহরজুড়ে এই ঘটনা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ও শোকের আমেজ বিরাজ করছে।