শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ০১:০২ পূর্বাহ্ন
শেখ ফরিদ আহমেদ, গোপালগঞ্জ :
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় মালিকানাধীন জায়গার ওপর দিয়ে জোরপূর্বক রাস্তা নির্মাণ এবং জমির ‘এওয়াজবদল’ বা বিনিময়ের শর্ত ভঙ্গ করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রিয়াজুল হক কমলের বিরুদ্ধে। বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের ঝুটিগ্রাম পূর্ব পাড়ায় এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী জিল্লুর রহমান ভুট্টোর অভিযোগ, পৈত্রিক জমি রক্ষা করতে গিয়ে তিনি এখন ওই নেতার পরিবারের হাতে লাঞ্ছিত ও প্রাণনাশের হুমকির শিকার হচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত রিয়াজুল হক কমল বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি অলিউল হক হিরু মিয়ার ছেলে এবং বর্তমানে ওই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক। জিল্লুর রহমান ভুট্টোর অভিযোগ অনুযায়ী, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে কমল তাঁর ঝুটিগ্রাম মৌজার ৫৪৫ খতিয়ানের ৭৬০ নম্বর দাগের মালিকানাধীন জমির ওপর দিয়ে জোরপূর্বক রাস্তা নির্মাণ করেন। সে সময় বাধা দিলে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় শরীক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একটি মৌখিক সমঝোতা হয় যে, রাস্তা নির্মাণের জন্য জিল্লুর রহমান জায়গা ছাড়লে বিনিময়ে পশ্চিম পাশ থেকে কমল সমপরিমাণ জায়গা ছেড়ে দেবেন।
ভুক্তভোগী জিল্লুর রহমান জানান, শর্ত অনুযায়ী তিনি প্রায় ১০০ হাত দীর্ঘ ও দুই হাত প্রশস্ত জায়গা রাস্তার জন্য ছেড়ে দিলেও রাস্তা নির্মাণের কাজ শেষ হওয়ার পর রিয়াজুল হক কমল তাঁর প্রতিশ্রুত জায়গা ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান। এ নিয়ে দফায় দফায় সালিশ-বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি। গত ২৭ মার্চ জিল্লুর রহমান নিজের জায়গা পুনরুদ্ধার করতে গেলে কমল ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেন।
জিল্লুর রহমান আরও বলেন, “আমার বাবা নেই, ভাই প্রবাসে থাকেন এবং মা অসুস্থ। এই সুযোগে কমল আমাকে একা পেয়ে হয়রানি করছে। আমার খালু মরহুম এম. মনসুর আলী গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবং আমি নিজেও বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকায় বিগত সময়ে আমাকে বারবার লাঞ্ছিত করা হয়েছে। গত নভেম্বর মাসেও কমলের পরিবারের সদস্যরা আমাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে।”
এ বিষয়ে বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনির মোল্লা জানান, বিষয়টি তিনি জানেন এবং কমল তাঁর আত্মীয় হওয়া সত্ত্বেও অনুরোধ উপেক্ষা করে কারো কথা শুনছেন না।
মুকসুদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, জিল্লুর রহমানের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। মালিকানাধীন জমিতে রাস্তা বা স্থাপনা নির্মাণে কোনো সমঝোতা বা শর্ত থাকলে তা উভয় পক্ষের মেনে চলা উচিত। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অভিযুক্ত রিয়াজুল হক কমলের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। বর্তমানে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।